11/10/2026
✨ রুকইয়াহর পর নিয়মিত আমল কেন জরুরি? বাস্তব এক অভিজ্ঞতার গল্প ✨
রাত তখন বারোটা। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঠিক এমন সময় ধানমন্ডি থেকে একটা কল এল। ওপাশ থেকে আকুতিমাখা কণ্ঠে এক ভাই বললেন, "হুজুর, আমার মায়ের অবস্থা খুব খারাপ। দয়া করে কিছু একটা করুন।"
এতো রাতে বাইরে যাওয়া রিস্কি ছিল, শরীরও ক্লান্ত। কিন্তু তাদের অসহায়ত্বের কথা ভেবে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে রাজি হলাম। পেশেন্ট পরিবার নিজে গাড়ি নিয়ে আমার বাসার সামনে চলে এলেন।
রোগীর অবস্থা ও হিস্ট্রি শুনে রুকইয়াহ শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল। রোগীর বোন বলতে শুরু করলেন তার শরীর প্রচণ্ড ব্যথা করছে, অস্থির লাগছে। আর মা (মূল রোগী) বললেন, তার পুরো শরীর যেন জ্বলে যাচ্ছে।
রুকইয়াহ সেশনগুলো সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা লম্বা হয়। রাত গভীর হওয়ায় এবং প্রতিবেশীদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে সাউন্ড বক্সের আওয়াজ নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা আমাকে বারবার অনুরোধ করছিলেন, "হুজুর, আমাদের কিছু নিয়মিত আমল (জিকির-আজকার) দিয়ে দিন, আমরা ইনশাআল্লাহ ধারাবাহিকভাবে সেগুলো করব।"
এভাবেই রুকইয়াহ করতে করতে ফজরের আজান হয়ে গেল। সব দিক বিবেচনা করে অবশেষে তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট আমল বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নিলাম। যাওয়ার সময় কড়াভাবে বলে দিয়েছিলাম—"আমল যেন একদিনও মিস না হয়।"
সত্যি বলতে, আমার মনে একটা খটকা ছিল। পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে হয়তো প্রোপার ট্রিটমেন্ট দিতে পারিনি। ভেবেছিলাম, কয়েকদিন পর হয়তো আবার সেশনের প্রয়োজন হবে।
কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর হাজার শুকরিয়া। ঠিক সাত দিন পর পেশেন্ট কল দিয়ে জানালেন, "হুজুর, আমরা সবাই এখন পুরোপুরি সুস্থ আছি।" আজ প্রায় এক মাস হতে চলল, আলহামদুলিল্লাহ তারা এখনও কোনো সমস্যার সম্মুখীন হননি।
শিক্ষা:
রুকইয়াহ বা শারয়ী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেশনের পর ধারাবাহিক আমল করা অত্যন্ত জরুরি। আমল হলো ওষুধের মতো, যা আপনাকে সুস্থ রাখতে এবং পুনরায় আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। চিকিৎসা করানোর পর অবহেলা না করে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দুআ ও জিকির চালিয়ে যান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।