11/10/2026
যত বড় হচ্ছি মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।এখন আর মুখের কোন কথা,কান্নাকাটি করে বলা কথায় গলে যাইনা..
ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠা বাচ্চা মেয়ে...মায়ের সাথে চেম্বারে এসে মা বলতেসে জন্ডিস পরীক্ষা করাবে।কারন জানতে চাইলে বলল উনার মেয়ে কিছু খেতে চায়না,খাবার দেখলে বমি পায়।,পেটে ব্যাথা থাকে প্রায়ই। মেন্সট্রুয়েশনেরর হিস্ট্রি নিয়ে জানলাম মাত্র ২-৩ বার হইসে টোটাল তাও অনিয়মিত থাকে। চোখে-মুখে-হাতে কোথাও জন্ডিস আছে মনো হলনা..
বমিভাবের কারন খোঁজতে কিছু টেস্ট দিলাম,সাথে প্রেগ্নেন্সি টেস্ট এড করালাম কিন্তু তাদের থেকে কিছুটা লুকিয়ে,রিসেপশনেও বলে দিলাম এটা কেনো দিসি যেন এক্সপ্লেইন না করে জাস্ট ইউরিন টেস্ট বলতে।যেহেতু বয়স এত কম,যে কেউই অন্যভাবে নিবে বা ডাক্তারকে গালাগালি করবে। তাই মনের সন্দেহ থেকেই করতে দেয়া...
আল্ট্রার প্রুব ধরেই দেখি তিন মাস (১২ সপ্তাহর ) বেবী মুভমেন্ট করতেসে,সুন্দর হার্টবিট আছে...রুগীর মা আমার পেছনে দাড়ানো কিভাবে শুরু করব ভাবছিলাম।তারপর বললাম সবকিছু।মেয়ের কাছে জানতে চাইলেন কিন্তু সে কিছুই জানেনা বারবার মার খেয়েও বলে গেলো। ভয়ে কমপক্ষে ১০০০ বার অস্বীকার করল। আমি চেম্বারে ঢেকে আলাদা কথা বলে অনেক কথার পর জানলাম ওর প্রাইভেট টিচার এসবের জন্য দ্বায়ী,এবং সে এতটাই বাধ্য মেয়ে যে স্যারের রিকুয়েষ্টে মা-বোনকেও কিছু বলেনি কখনো! জোর পূর্বক ধর্ষন হলে যে কেউ হলে ওই স্যারের বাসায় আর কখনো যেতে চাইত না।ওর কথা কতটা সত্য আমি জানিনা।
এর আগেও এমন আরও অনেক পেশেন্ট পেয়েছি যাদের আল্ট্রায় বাচ্চা দেখানোর পরেও তারা কিছু জানেনা বলসে।...
তাছাড়া মাত্র একদিনের জোরাজোরিতে কন্সিভ হয়ে যাওয়াটাও এতো সোজা কথা না,কারন মাসের নির্দিষ্ট দিনেই কেবল কন্সিভ হয়!এই ১২ বছরের মেয়েটার কোন টেনসান ভয়ও দেখলাম না। হয়তো সে কি অবস্থায় আছে এটাই বুঝতেসেনা। না পারবে সহজে এটা নষ্ট করতে না পারবে কন্টিনিউ করতে।
বাচ্চাদের আজকাল কোথাও একা পাঠানোর ব্যাপারে মায়েদের অবশ্যই আরও সতর্ক থাকা উচিৎ। ছেলে বাচ্চারাও সেইফ না আজকাল।এসব জানোয়ারের থাবা থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে টিচার বাসায় এনে সামনে বসে থেকে পড়ান।মায়েরা বাচ্চার সাথে আরও ফ্রেন্ডলি আচরন করুন যেনো সবকিছু বলতে ভরসা পায়।
~ডা. ফারজানা কলি