21/09/2026
কিডনি পাথর (কিডনি স্টোন) মূলত প্রস্রাবে কিছু খনিজ ও লবণের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে স্ফটিক তৈরি হওয়া এবং সেগুলো জমে শক্ত পাথর হয়ে যাওয়ার ফলে হয়।
Medlineplus
কেন হয়?
প্রধান কারণগুলো:
পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন): সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে প্রস্রাব ঘন হয় এবং খনিজ জমে পাথর তৈরি হয়।
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ আমিষ (মাংস, মাছ), অক্সালেট-সমৃদ্ধ খাবার (পালংশাক, চকলেট, বাদাম, বিট ইত্যাদি), চিনি।
বংশগত/জেনেটিক কারণ এবং পারিবারিক ইতিহাস।
অন্যান্য: স্থূলতা, গাউট, ডায়াবেটিস, ঘন ঘন প্রস্রাবের সংক্রমণ (ইউটিআই), কিছু মেডিকেল কন্ডিশন (যেমন হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম), কম শারীরিক পরিশ্রম।
Kidney
সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর (প্রায় ৭০-৮০%)। অন্যান্য ধরন: ইউরিক অ্যাসিড, স্ট্রুভাইট (সংক্রমণজনিত) ও সিসটিন (বিরল)।
হলে করণীয় কী?
তীব্র ব্যথা, জ্বর, বমি, প্রস্রাবে রক্ত বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত ডাক্তার দেখান। এটি জরুরি হতে পারে।
ছোট পাথর (সাধারণত ৫ মিমির কম) অনেক সময় নিজে থেকেই বেরিয়ে যায়।
প্রচুর পানি পান করুন (দিনে ২.৫–৩ লিটার বা তার বেশি, যাতে প্রস্রাব হালকা রঙের হয়)।
ব্যথানাশক ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিন।
প্রস্রাব ছেঁকে পাথর ধরে রাখুন (ডাক্তার টেস্ট করতে পারেন)।
বড় পাথর বা জটিলতা থাকলে শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি, ইউরেটেরোস্কোপি বা অন্যান্য পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।
নিজে থেকে ওষুধ বা চিকিৎসা শুরু করবেন না। পাথরের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা আলাদা হয়।
প্রাকৃতিক সহায়ক উপায় (মেডিকেল চিকিৎসার পরিপূরক)
এগুলো সাপোর্টিভ; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে নেবেন না।
প্রচুর পানি: সবচেয়ে কার্যকর উপায়। দিনে ২.৫–৩ লিটার বা তার বেশি পান করুন।
লেবুর রস: লেবুতে সাইট্রেট থাকে যা পাথর গঠন কমাতে সাহায্য করে। পানিতে তাজা লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
কিছু গবেষণায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার বা নির্দিষ্ট চায়ের কথা বলা হয়, কিন্তু প্রমাণ সীমিত এবং ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিন।
ফল-সবজি বাড়ান (বিশেষ করে সাইট্রাস)।
সতর্কতা: কোনো ভেষজ বা ঘরোয়া প্রতিকারের অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভবতী, ডায়াবেটিস বা অন্য রোগ থাকলে আরও সতর্ক থাকুন।
সতর্কতা ও প্রতিরোধ
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রস্রাব স্বচ্ছ বা হালকা হলুদ রাখুন।
লবণ কম খান (প্রসেসড খাবার, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন)।
প্রাণিজ আমিষ সীমিত করুন।
ক্যালসিয়াম খাবার থেকে নিন (দুধ, দই ইত্যাদি পরিমিত), সাপ্লিমেন্ট নিজে থেকে শুরু করবেন না।
অক্সালেট বেশি খাবার (পালংশাক, বাদাম, চকলেট ইত্যাদি) প্রয়োজন হলে সীমিত করুন — ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত হাঁটাচলা করুন।
প্রস্রাব আটকে রাখবেন না।
একবার হয়ে গেলে ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই ২৪-ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
Kidney
মনে রাখবেন: এই তথ্য সাধারণ জ্ঞানের জন্য। ব্যক্তিভেদে কারণ ও চিকিৎসা আলাদা। লক্ষণ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে অবশ্যই ইউরোলজিস্ট বা নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিন। বাংলাদেশে গরম আবহাওয়ায় পানি কম খাওয়ায় ঝুঁকি বেশি, তাই হাইড্রেশনকে অগ্রাধিকার দিন। #কিডনিপাথর
#কিডনিস্বাস্থ্য
#স্বাস্থ্যসচেতনতা
#প্রচুরপানিপানকরুন