25/09/2026
উত্তর কোরিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক অজানা কিন্তু চমৎকার দিক হলো তাদের চিকিৎসাকর্মীদের স্তরবিন্যাস। সেখানে 'বু-ইসা' (부의사/준의사) নামের যে সহযোগী/সহকারী ডাক্তারা আছেন, তাঁরা মূলত এমবিবিএস (MBBS) ডাক্তার এবং সাধারণ মানুষের মাঝখানে এক সেতুর মতো কাজ করেন। এই Assistant Doctor মুলত ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ধারী চিকিৎসক।
আমরা প্রায়ই ভাবি, ভালো চিকিৎসা মানেই বড় ডাক্তার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসকরা বেশিরভাগ সময় শহরের বড় হাসপাতাল বা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এই 'মধ্যবর্তী স্তরের চিকিৎসক' (intermediate-level practitioners)-দের কোনো বিকল্প নেই।
উত্তর কোরিয়ায় নানা ধরনের সমস্যা বা রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও, তাদের এই ব্যবস্থা থেকে আমরা তিনটি খুব মানবিক ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা পেতে পারি:
প্রথমত, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা: সাধারণ রোগের সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া, যাতে রোগীরা রোগ গায়ে মাখেন বা কোয়াকদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য না হন। কোনো গুরুতর রোগীকে বড় হাসপাতালে পাঠানোর আগে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা এবং রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এই চিকিৎসাকর্মীরা অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।
দ্বিতীয়ত, সুস্থতার প্রতি সচেতনতা: তাঁরা শুধু ওষুধই দেন না, বরং পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ নিয়ে মানুষকে সচেতন করে তোলেন। অর্থাৎ, তাঁরা রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধেও সমান গুরুত্ব দেন।
তৃতীয়ত, আস্থা ও বিশ্বাস: তারা বেশিরভাগ সময় মধ্যবিত্ত্ বা টাউনশীপ পরিবেশে বেড়ে উঠেন এতে
স্থানীয় মানুষের সাথে এই চিকিৎসাকর্মীদের নিত্যদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে।
ফলে রোগীরা কোনো দ্বিধা বা ভয় ছাড়াই তাদের কাছে মনের কথা বা শারীরিক সমস্যার কথা খুলে বলতে পারেন—যা অনেক সময় ব্যস্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পুরো কাঠামোই যেকোনো সময় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যদি সাশ্রয়ী মূল্যে সেবার সুযোগ না থাকে।
সহজ কথায়, একটি সুস্থ সমাজ গড়ার পেছনে এই মধ্যবর্তী স্বাস্থ্যসেবকদের অবদান কোনোভাবেই অবহেলা করার নয়। তাঁরা শুধু চিকিৎসক নন, তাঁরা একটি সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্যের প্রহরী।