15/10/2026
আশি ঘণ্টার ভিসি ও মুচলেকার রাজনীতি
===============================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
১৫ অক্টোবর ২০২৬
—————————————————————-
আমাদের দেশের রাজনীতিতে 'মুচলেকা' শব্দটির এক দীর্ঘ ও বিচিত্র ইতিহাস রয়েছে। সংকটকালে কিংবা কোনো বিপর্যয় থেকে সাময়িক উদ্ধার পেতে ক্ষমতার কারিগররা সাদা কাগজে অঙ্গীকারনামা লিখে দেওয়াকে বেশ সহজ পথ বলে মনে করেন। ২০০৮ সালে রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমানের বিদেশ যাত্রা থেকে শুরু করে আজকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উত্তপ্ত ঘটনা—মুচলেকার এই সংস্কৃতি রাজনৈতিক প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে এখন আমাদের উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অলিন্দেও পাকা জায়গা করে নিয়েছে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) একজন সাবেক ছাত্রদল নেতাকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর যা ঘটল, তা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নগ্ন দলীয়করণের এক বাস্তব দলিল। মাত্র আশি ঘণ্টার মাথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, অবস্থান ও লাল কার্ডের মুখে পড়ে তাঁকেও শেষপর্যন্ত ‘আর কোনোদিন চুয়েটের মাটিতে পা রাখব না’ মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে, ছাত্রদলের প্রহরায় ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। জোরপূর্বক দলীয় পরিচয়ের তোয়াক্কায় ভিসির চেয়ারে বসানোর এই চেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতনার কাছে ভেস্তে গেছে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ক্যাডার ও দলীয় তোষামোদকারীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করার এই খেলা অনেক পুরোনো। রাষ্ট্র বা সরকারের চেয়ার বদলালেই যদি ভাবা হয় যে পুরোনো পথেই আবার সব পদ-পদবি নিজের দলের পকেটে পোরা যাবে, তবে চুয়েটের এই পরিণতি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। সাধারণ ছাত্রসমাজ জানিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনিক পদে কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার আশীর্বাদপুষ্ট প্রতিনিধিকে তারা অভিভাবক হিসেবে মানবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর এবার অন্তত উপলব্ধি করা উচিত যে, ক্ষমতার দাপট দিয়ে কিংবা অনুগত মানুষদের পদে বসিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে চালানো যায় না। সাধারণ মানুষ ও তরুণরা যখন কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়, তখন সাজানো ক্ষমতা আর দলীয় পাহারার ভেতরের নড়বড়ে সত্যটা বেরিয়ে পড়ে; আর বিদায় নেওয়ার পথটি হয় অত্যন্ত করুণ।
ক্ষমতার জোর দেখিয়ে একটা প্রশাসনিক চেয়ারে বসা হয়তো সহজ, কিন্তু দায়িত্বের নৈতিক ভিত্তি ছাড়া সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব। যে পদ ও সম্মান রক্ষা করতে শেষ পর্যন্ত মুচলেকার কাগজে সই দিতে হয়, তা কোনো শিক্ষক কিংবা রাজনীতিবিদের জন্য গর্বের নয়—বরং এক স্থায়ী দেউলিয়াপনার স্মারক।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য