Prime Time at Sixty

Call Website

Prime Time at Sixty Welcome to “Prime Time At Sixty”! Explore, connect, and create memories that sparkle like stars🌟.

আশি ঘণ্টার ভিসি ও মুচলেকার রাজনীতি===============================লেখকঃ ফোরকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখকলুটন, যুক্তরা...
15/10/2026

আশি ঘণ্টার ভিসি ও মুচলেকার রাজনীতি
===============================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
১৫ অক্টোবর ২০২৬
—————————————————————-
আমাদের দেশের রাজনীতিতে 'মুচলেকা' শব্দটির এক দীর্ঘ ও বিচিত্র ইতিহাস রয়েছে। সংকটকালে কিংবা কোনো বিপর্যয় থেকে সাময়িক উদ্ধার পেতে ক্ষমতার কারিগররা সাদা কাগজে অঙ্গীকারনামা লিখে দেওয়াকে বেশ সহজ পথ বলে মনে করেন। ২০০৮ সালে রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমানের বিদেশ যাত্রা থেকে শুরু করে আজকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উত্তপ্ত ঘটনা—মুচলেকার এই সংস্কৃতি রাজনৈতিক প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে এখন আমাদের উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অলিন্দেও পাকা জায়গা করে নিয়েছে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) একজন সাবেক ছাত্রদল নেতাকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর যা ঘটল, তা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নগ্ন দলীয়করণের এক বাস্তব দলিল। মাত্র আশি ঘণ্টার মাথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, অবস্থান ও লাল কার্ডের মুখে পড়ে তাঁকেও শেষপর্যন্ত ‘আর কোনোদিন চুয়েটের মাটিতে পা রাখব না’ মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে, ছাত্রদলের প্রহরায় ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। জোরপূর্বক দলীয় পরিচয়ের তোয়াক্কায় ভিসির চেয়ারে বসানোর এই চেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতনার কাছে ভেস্তে গেছে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ক্যাডার ও দলীয় তোষামোদকারীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করার এই খেলা অনেক পুরোনো। রাষ্ট্র বা সরকারের চেয়ার বদলালেই যদি ভাবা হয় যে পুরোনো পথেই আবার সব পদ-পদবি নিজের দলের পকেটে পোরা যাবে, তবে চুয়েটের এই পরিণতি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। সাধারণ ছাত্রসমাজ জানিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনিক পদে কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার আশীর্বাদপুষ্ট প্রতিনিধিকে তারা অভিভাবক হিসেবে মানবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর এবার অন্তত উপলব্ধি করা উচিত যে, ক্ষমতার দাপট দিয়ে কিংবা অনুগত মানুষদের পদে বসিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে চালানো যায় না। সাধারণ মানুষ ও তরুণরা যখন কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়, তখন সাজানো ক্ষমতা আর দলীয় পাহারার ভেতরের নড়বড়ে সত্যটা বেরিয়ে পড়ে; আর বিদায় নেওয়ার পথটি হয় অত্যন্ত করুণ।
ক্ষমতার জোর দেখিয়ে একটা প্রশাসনিক চেয়ারে বসা হয়তো সহজ, কিন্তু দায়িত্বের নৈতিক ভিত্তি ছাড়া সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব। যে পদ ও সম্মান রক্ষা করতে শেষ পর্যন্ত মুচলেকার কাগজে সই দিতে হয়, তা কোনো শিক্ষক কিংবা রাজনীতিবিদের জন্য গর্বের নয়—বরং এক স্থায়ী দেউলিয়াপনার স্মারক।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য

মানুষ হওয়ার রাজনীতি ও শেখানো আদব===============================লেখকঃ ফোরকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখকলুটন, যুক্তরাজ্...
14/10/2026

মানুষ হওয়ার রাজনীতি ও শেখানো আদব
===============================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
১৪ অক্টোবর ২০২৬
—————————————————————-
আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, এটি কর্মী তৈরি করে, ক্যাডার তৈরি করে, নেতা বানায়—কিন্তু রক্ত-মাংসের মানুষ বানাতে পারে না। বছরের পর বছর যে লীগ বা রাজনৈতিক ব্যানারগুলো ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এসেছ, তারা প্রতিপক্ষকে দমন করতে গুম, খুন আর নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিল। রাষ্ট্রকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে তারা ভুলে গিয়েছিল যে, কোনো একক দল বা নেতার ক্ষমতা চিরস্থায়ী হয় না। ক্ষমতা হারানোর পর যখন সেই অপরাধের হিসাব দেওয়ার সময় আসে, তখন তাদের সেই পুরোনো উগ্রতা কেবল করুণ আর হাস্যকর শোনায়।
শান্তিতে নোবেলজয়ী একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা সমাজের গুণী মানুষদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়, সেই ন্যূনতম শিষ্টাচারও তারা শেখেনি। ক্ষমতার অন্ধ অহংকারে অন্ধ হয়ে তারা সবাইকে নিজেদের প্রজা ভেবে এসেছে। যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতাদের একমাত্র শিক্ষা থাকে অন্ধ আনুগত্য আর তোষামোদি, সেখানে বাকসংযম বা পরমতসহিষ্ণুতা আশা করাটা বৃথা। রাজনীতি যখন জনসেবা ছেড়ে স্রেফ সন্ত্রাসী কারবারে পরিণত হয়, তখন দলের ক্যাডাররা মানুষের মর্যাদা বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
আসলে, ক্ষমতা যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন রাষ্ট্র ও সমাজের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এতদিন পর্যন্ত যারা রাজনীতির নামে ভয় আর ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে এসেছিল, আজ তাদের ভাবা উচিত—দলীয় পরিচয় বা নেতার ছবি দিয়ে জীবনের আসল অর্থ ঢাকা যায় না। রাজনীতিকে যদি সত্যিই দেশের কল্যাণে ব্যবহার করতে হয়, তবে আগে সেই পচে যাওয়া সংস্কৃতি আর সন্ত্রাসী মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল নাগরিকের মর্যাদা দেওয়া এবং সমাজকে উন্নত করা। অথচ আমাদের দেশে রাজনীতি বলতে বোঝায় একে অপরকে গুম করা, খুন করা আর গালাগালি দেওয়া। এই নগ্ন বাস্তবতা বদলাতে হলে দলীয় পরিচয়ের ওপর মানবিক মূল্যবোধকে জায়গা দিতে হবে।
যে রাজনীতি মানুষকে হিংস্র করে তোলে এবং নিজের দেশের প্রবীণ ও সম্মানিত মানুষদের মর্যাদা দিতে শেখায় না, তা কোনো রাজনীতি নয়—তা স্রেফ এক অপসংস্কৃতি। দলীয় ব্যানারের পেছনে লুকানোর আগে সবার আগে নিজের ভেতর মানুষ হয়ে ওঠার তাগিদ জাগানো প্রয়োজন।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য

13/10/2026

ভিআইপি খাঁচা ও ক্ষমতার দাসত্ব
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
১৩ অক্টোবর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য বা ভিসি পদটির গুরুত্ব যতটা না শিক্ষাগত যোগ্যতার, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি দলীয় আনুগত্যের। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে উপাচার্যের চেয়ারটি যেন এক অদৃশ্য নিলামে উঠে যায়। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) যা ঘটে চলেছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও শিক্ষকতার মর্যাদাকে চরম এক রাজনৈতিক বিদ্রূপের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দলীয় পরিচয়ের তোয়াক্কা করে চেয়ার আঁকড়ে থাকার এই যে এক অদ্ভুত লোভ, তা কোনো স্বনামধন্য শিক্ষকের পক্ষে মানানসই নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদটিকে দলীয় লেজুড়বৃত্তির হাতিয়ার বানানোর ফল কী হতে পারে, তা চুয়েটের সাম্প্রতিক ঘটনাতেই পরিষ্কার। শিক্ষার্থীরা যখন কোনো উপাচার্যকে প্রত্যাখান করে তাঁর দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং খোদ গ্রিল ও তালাবদ্ধ গেটের ফাঁক দিয়ে মানবিক বিস্কুট, কলা ও পানি বাড়িয়ে দেয়, তখন সেই দৃশ্য উপাচার্যের মর্যাদাকে খাঁচার বন্দীর লেভেলে নামিয়ে আনে। আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন কোনো মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় অপমান আর হতে পারে না। অথচ, আমাদের দেশের ক্ষমতার মোহে অন্ধ হওয়া কিছু শিক্ষক পদ বাঁচানোর জন্য শিক্ষার্থীদের সব অপমান নীরবে সয়ে নিতেও দ্বিধা করেন না।
'যেই ভিসি ছাত্রদলের, সেই ভিসি আমার না'—শিক্ষার্থীদের এই স্লোগান কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের চেয়েও বড় কথা হলো, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দলীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে এক সরাসরি অনাস্থা। বিগত সময়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয়েছে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যদি অন্য কোনো দল এসে একই কায়দায় নিজেদের অনুগত ভিসি বসাতে চায়, তবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ব্যর্থ হতে বাধ্য। তরুণেরা যখন পরিষ্কার ভাষায় দলীয় রাজনীতিমুক্ত ও নিরপেক্ষ অভিভাবক চায়, তখন জোড়জবরদস্তি করে চেয়ার আঁকড়ে রাখা কেবল এক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ।
ক্ষমতার সুবাস মানুষকে কতটা অন্ধ করে দেয়, চুয়েটের দপ্তরের এই অবরুদ্ধ ছবিগুলো তারই এক বাস্তব উদাহরণ। পদ-পদবির পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে সম্মানিত শিক্ষকদের বোঝা উচিত—শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ছাড়া কেবল রাজনৈতিক দলের দয়ায় পাওয়া ভিসি পদের কোনো সামাজিক বা নৈতিক মূল্য থাকে না। লজ্জা ও আত্মসম্মান যদি রাজনীতির পকেটে জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই উপাচার্যের অধীনে কোনো জ্ঞানচর্চা হতে পারে না।
উপাচার্যের চেয়ার কোনো রাজনৈতিক দলের উপহার বা পুরস্কার নয়, এটি একটি আমানত। যে শিক্ষক ক্ষমতার দাপটে সেই চেয়ার হাইজ্যাক করতে চান বা দলীয় অনুগত হয়ে টিকে থাকতে চান, দিনশেষে ইতিহাস তাঁকে এক অবরুদ্ধ খাঁচার বন্দী হিসেবেই মনে রাখে।

নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য

10/10/2026

ভূত শিকার ও পর্দার পেছনের কাসুন্দি
———————————————————————
আমাদের সমাজে বিপদের ধরন বড় অদ্ভুত। মানুষ যখন নিজের অপরাধ বা পকেট চুরির হাতসানি লুকাতে ব্যর্থ হয়, তখন সে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় অদৃশ্য কোনো দানব বা কাল্পনিক জুজু। পাড়ায় পাড়ায় বা অলিতে-গলিতে ছিপছিপে টিনশেড কিংবা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কথিত কওমি মাদ্রাসাগুলোর অন্দরমহলে এখন ধর্মীয় শিক্ষার চেয়ে যে কারিকুলাম বেশি সরগরম, তা হলো শিশুদের ওপর চালিত পাশবিক নির্যাতনের নিত্যনতুন মহড়া। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা উল্টালেই এই তথাকথিত আলেম ও ওয়াজ ব্যবসায়ীদের কুকর্মের যে বয়ান বেরিয়ে আসে, তা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ সহ্য করতে পারে না।
কিন্তু মানুষের স্বভাব হলো, অপরাধ যত বড় হয়, তার আড়াল করার ভণিতাও তত বেশি উঁচু গলায় প্রকাশ পায়। এই একশ্রেণির বিকৃতকাম ও পায়ুকামী ভণ্ডপীরেরা যখন দেখে যে তাদের কুকীর্তি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে, তখন তারা খুব সুকৌশলে সমাজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজেরা ধরা পড়ার উপক্রম হতেই তারা ঘোষণা করে এক আজগুবি ও কল্পিত ভূতের বিরুদ্ধে মহাজিহাদ। সমাজে হিংসা ছড়ানো এবং ধর্মকে নিজেদের অপকর্ম ঢাকার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাটাই এখন তাদের মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসল সত্য যখন সামনে চলে আসে, তখন তারা নতুন কোনো অবাস্তব ইস্যু তৈরি করে এমন হইচই বাধায়, যেন গোটা দেশটাই এক অদৃশ্য বিপদের মুখে পড়ে আছে।
আমলাতন্ত্র বা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরাও অনেক সময় এই ওয়াজ ব্যবসায়ী আর ভণ্ডদের দৌরাত্ম্য দেখে চোখ বন্ধ করে রাখেন। কারণ, ধর্মভীরু মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে যারা ফায়দা লোটে, সমাজে তাদের একটা আলাদা পরজীবী শ্রেণী থাকে। তারা জানে, সাধারণ মানুষের সরলতাকে জিম্মি করতে পারলে নিজেদের অপরাধের ফাইল চিরতরে চাপা দেওয়া সম্ভব। মাদ্রাসার চার দেওয়ালের ভেতর অবুঝ শিশুদের ওপর যে নরকীয় নির্যাতন চালানো হয়, তার বিরুদ্ধে কথা বললেই এই চক্রটি ধর্ম বিপন্ন হওয়ার কান্নাকাটি শুরু করে। অথচ ধর্ম রক্ষায় নয়, নিজেদের বিকৃত মানসিকতা আর নিরাপদ আয়েশ বজায় রাখাতেই তাদের আসল কাসুন্দি ঘাঁটা হয়।
এই প্রহসনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্য হলো, যারা সমাজে নৈতিকতার সবক দেয়, তারাই ভেতরে ভেতরে পচে গলে একাকার হয়ে গেছে। নিজেদের কুকর্মের গন্ধ ঢাকতে তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কল্পিত শত্রু বা ভূতের ভয় দেখায়। সাধারণ মানুষও একসময় সেই ফাঁদে পা দিয়ে আসল সমস্যার কথা ভুলে যায়। সমাজ সংস্কারের নামে এই যে ভণ্ডামির কারখানা গড়ে উঠেছে, তার শেকড় অনেক গভীরে।
দিনের পর দিন অপরাধ লুকিয়ে রাখার এই খেলা অনন্তকাল চলতে পারে না। মুখোশ যতই নিখুঁত হোক না কেন, একদিন তা খসবেই। ভুতের ভয় দেখিয়ে কিংবা জিহাদের শ্লোগান তুলে নিজের কুকর্ম ঢাকার দিন শেষ হয়ে আসছে; কারণ অন্ধকার যত গভীরই হোক, একটা সময় পর সত্যের আলো ঠিকই ফাটল দিয়ে উঁকি দেয়।

প্যানেল ভাইবা, ট্যাগবাজি ও মহৎ এলামনাইদের ভেটো-সার্কাস=================================লেখকঃ ফোরকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ...
08/10/2026

প্যানেল ভাইবা, ট্যাগবাজি ও মহৎ এলামনাইদের ভেটো-সার্কাস
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
৮ অক্টোবর ২০২৬
———————————————————————
বিতর্ক ক্লাব বলতেই আমরা সাধারণত বুঝি যুক্তি, মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার এক উদাত্ত তীর্থভূমি। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে 'মুক্তচিন্তা'র সংজ্ঞাটি যে কতটা সংকীর্ণ ও সুবিধাজনক, তা গভর্নিং বডি বা এলামনাইদের কর্মকাণ্ড দেখলে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। গত মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং বিতর্ক অঙ্গনে জেঁকে বসা ছদ্মবেশধারী প্রগতিশীলতা ও আমলাতান্ত্রিক নেপোটিজমের এক ক্লাসিক উদাহরণ।
যোগ্যতা, অর্জনের রেকর্ড কিংবা স্পন্সর ম্যানেজমেন্টের ক্ষমতা—সব মাপকাঠিতেই ইসলামুল হক সৌরভ প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী ছিল। কিন্তু দিনশেষে তার সব যোগ্যতাকে ভেস্তে দিল একটিমাত্র অস্ত্র: ‘ট্যাগবাজি’। এলামনাইদের একটি অংশ পণ করে বসেছিল, "শিবিরের হাতে ক্লাব দেওয়া যাবে না।" যে দেশে ব্যক্তির রাজনৈতিক বিশ্বাস বা মতাদর্শের চেয়ে তার প্রশাসনিক যোগ্যতাকে বড় করে দেখার কথা, সেখানে এলামনাইরা নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিতে বসিয়ে দিল এক অভিনব বিচারসভা।
ঘটনার সবচেয়ে মজার কিংবা বিদ্রূপাত্মক দিক হলো তথাকথিত 'বিচারক' বা এলামনাইদের নিজেদের অতীত ও বর্তমান। যারা রাজনৈতিক গন্ধ পেয়ে সৌরভকে বাতিল করলেন, তাদের ঝুলিতেই দেখা যাচ্ছে নিখাদ রাজনৈতিক পরিচয়। কেউ একনিষ্ঠ ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী, তো কারও পরিবার কিংবা নিজস্ব অতীত যুক্ত ছিল ছাত্রলীগের মতো সংগঠনের সঙ্গে। অর্থাৎ, নিজেরা কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সেটা প্রগতিশীলতা ও 'ব্যক্তি স্বাধীনতা', আর অপছন্দের কেউ একই অধিকার চর্চা করতে গেলে তা ক্লাবের জন্য ‘হুমকি’! হিপোক্রিসির এই অনন্য প্রদর্শনী বিতর্ক অঙ্গনের তথাকথিত নিরপেক্ষতার গালে এক বিরাট চড়।
আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, এই অবিচারের বিরুদ্ধে তৎকালীন ইসি প্রেসিডেন্ট যখন কথা বলতে গেলেন, তাকেও মুহূর্তের মধ্যে বানিয়ে দেওয়া হলো 'শিবির'। আমাদের সমাজে কাউকে কোনো যুক্তিতে হারাতে না পারলে বা তার সত্যকে ঢেকে দিতে হলে সবচেয়ে সহজ কাজ হলো তাকে একটি তকমা গায়ে সেঁটে দেওয়া। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অবশেষে ইসি প্যানেলকে তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করা হলো। প্যানেল হ্যান্ডওভারে এলামনাইদের এই জঘন্য হস্তক্ষেপ আর ভেটো দেওয়ার সংস্কৃতি কোনো নতুন বিষয় নয়, কিন্তু যোগ্যতা বাদ দিয়ে নিজেদের অনুগতদের পদে বসানোর এই চর্চা আসলে খাঁটি স্বজনপ্রীতি বা নেপোটিজম ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিতর্কের মঞ্চে আমরা বিশ্বজয়ের গল্প বলি, মুক্তচিন্তার বুলি আওড়াই, কিন্তু ব্যাকস্টেজে ক্ষমতার চর্চা করি ঠিক সেই বস্তাপঁচা রাজনৈতিক ক্যাডারদের মতো। রাজনীতি যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে—সে আস্তিক হোক, নাস্তিক হোক, ডানে থাক কিংবা বাঁয়ে থাক—যোগ্যতা থাকলে ক্লাবের নেতৃত্ব পাওয়ার অধিকার তার থাকা উচিত। এলামনাইদের কাজ গাইড করা, ক্লাবের ওপর অভিভাবকত্বের নামে স্বৈরাচার চালানো নয়।
যে ক্লাব যুক্তির আলো ছড়ানোর কথা, সেখানে যদি সত্য কথা বলার অপরাধে ইসি সভাপতিকে অপদস্থ হতে হয় আর যোগ্যতম প্রার্থীকে রাজনীতির ঘানি টানতে হয়, তবে সেই ক্লাবের ট্রফিগুলো আসলে ফাঁপা বিজয়ের প্রতীক ছাড়া আর কিছু বহন করে না। ক্ষমতা ধরে রাখার এই সুবিধাবাদী কালচার বন্ধ না হলে একদিন বিতর্ক ক্লাবগুলো কেবল নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ড্রয়িংরুমে পরিণত হবে।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

07/10/2026

আমলকীর আঁটি ও একজন সাবেক ক্যাডার
—————————————————————-১
আমাদের দেশে রাজনীতির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—এখানে মতাদর্শের মেয়াদকাল আমলকীর আঁটির চেয়েও দ্রুত শেষ হয়, কিন্তু অপরাধবোধের আয়ুষ্কাল অনেক সময় রাতারাতি বেড়ে যায়।
ভোটের আগে জাকিরুল পাড়ার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বিনয়ের এমন এক অবতার সেজেছিল, যা দেখলে স্বয়ং ঋষি-মুনিরাও লজ্জা পেতেন। তখন ধানের শীষের জন্য ভোট চাওয়াটা তার কাছে ছিল দেশ উদ্ধারের একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। সমস্যা হলো, নির্বাচনে জয়ের পর যখন দল ক্ষমতায় বসল, তখন তার চারপাশের ভাইয়েরা দেশ উদ্ধারের বদলে চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্বের নতুন এক 'মহাকাব্য' রচনা করতে শুরু করল। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ঝালমুড়িওয়ালা—সবাই যখন ক্ষমতার নতুন স্বাদ টের পেতে লাগল, তখন জাকিরুল আবিষ্কার করল, সে আসলে পরিবর্তনের অনুঘটক ছিল না, ছিল এক বিরাট অন্যায়ের অবৈতনিক সেলস্যান।
ক্ষমতা যখন পচে গন্ধ ছড়াতে শুরু করে, তখন তার সবচেয়ে বড় আঘাতটা গিয়ে লাগে নিচের তলার অনুতপ্ত কর্মীদের নাকে। জাকিরুলের মতো সাধারণ কর্মীরা তখন বোঝে, তারা রাজপথে রক্ত দিয়ে আসলে কয়েকজন নতুন মালিক তৈরি করেছে মাত্র। নিজের তৈরি সেই মালিকদের কীর্তিকলাপ দেখে এবং পাড়া-প্রতিবেশীর গালি শুনে অতিষ্ঠ জাকিরুল শেষমেশ ফেসবুকে শরণ নিল। অতি মানবিক এক আকুতি জানিয়ে সে লিখল, “যাদের কাছে ভোট চাইছি, তাদের কাছে মাপ চাই... একটা ভোটই তো চাইছিলাম, জায়গা-জমি তো চাইনি।” যে আঙুল দিয়ে সে ভোটের দিন সিল মেরেছিল, সেই আঙুল দিয়েই কান্নার ইমোজি চেপে সে রাষ্ট্র ও দলের কাছে নিজের নিঃশর্ত দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করল।
কিন্তু আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর মগজ এক অদ্ভুত উপাদানে তৈরি; সেখানে ভুল স্বীকার করাটা ক্ষমতার প্রতি চরম অ আনুগত্য হিসেবে গণ্য হয়। জাকিরুলের এই চাওয়া বা ক্ষমা প্রার্থনা দলের চোখে গণমানুষের প্রতি সহানুভূতি হিসেবে ধরা পড়েনি, ধরা পড়েছে 'সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ' হিসেবে। নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে এক টুকরো প্যাড নির্দ্বিধায় জারি হয়ে গেল, যেখানে লেখা হলো জামালপুর জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। নোটিশে সভাপতির নাম আছে, সাধারণ সম্পাদকের নাম আছে, এমনকি ফ্যাক্স নম্বরও আছে—শুধু যা নেই, তা হলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বোঝার মতো সামান্যতম অনুভূতির উপস্থিতি।
আমাদের দেশে রাজনীতিতে ঢোকার দরজাটা যতটা চওড়া, সত্য কথা বলে বের হওয়ার দরজাটা ততটাই সংকীর্ণ। ক্ষমতা যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন সে নিজের কর্মীদেরও শত্রু মনে করে, যদি তারা ভুল করে আয়না সামনে ধরে ফেলে। জাকিরুলের এই বহিষ্কারাদেশ আসলে কোনো শাস্তি নয়, বরং এটি একটি দলীয় স্বীকৃতি যে—তুমি অনুশোচনা করার মতো অপরাধ করে ফেলেছ!
ক্ষমতার এই অদ্ভুত সার্কাসে জাকিরুল হয়তো পদ হারাল, কিন্তু হয়তো বা বেঁচে গেল। শেষপর্যন্ত রাজনীতি মানুষকে দুটি জিনিস দেয়: ক্ষমতার অহংকার, অথবা ভুলের মাসুল। পদ খোয়ানোর পর অন্তত জাকিরুল নিশ্চিত হতে পারল—পরের নির্বাচনে কাউকে আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দায় অন্তত তার কাঁধে থাকবে না।

06/10/2026

ষোলো বছরের মৌনতা ও এক রাতের ক্ষোভ
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
৬ অক্টোবর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের জনমনে ধৈর্যের পরিমাপটা বড় অদ্ভুত। টানা ষোলো বছর ধরে চোখের সামনে হাজার হাজার কোটি টাকার পাচার, রাজনৈতিক হত্যা, গুম, নির্বিচারে হামলা আর প্রকাশ্য চাঁদাবাজি চলেও মানুষ চুপ করে বসে ছিল। রাষ্ট্র যখন মানুষের বাকস্বাধীনতা আর মৌলিক অধিকারগুলোকে একে একে নিঃশেষ করছিল, তখন নাগরিক সমাজ নীরবতার এক পরম আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল। কিন্তু আজ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সামান্য কোনো নাগরিক অসন্তোষ বা দাবিদাওয়ার সামনে এসে যখন তথাকথিত সুশীল সমাজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়ে, তখন নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ কেবল বিস্ময়ে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে।
এই দ্বিমুখী মেজাজ সমাজের এক অস্বস্তিকর মানসিক রূপ উন্মোচন করে। যারা দীর্ঘ ষোলো বছরের একচ্ছত্র দুঃশাসন আর দুর্নীতিকে নীরবে সহনীয় ভেবে মেনে নিয়েছিল, তারাই আজ সামান্য নাগরিক অধিকারের চর্চাকে বিশৃঙ্খলা বলে গালি দিচ্ছে। যে মুখগুলো বছরের পর বছর অন্যায়ের সামনে সেলাই করা ছিল, ক্ষমতার হাতবদল হতেই সেই মুখগুলো থেকে হঠাৎ নীতি ও শৃঙ্খলার খৈ ফুটতে শুরু করেছে। এই যে আচমকা অনৈতিকতার বিস্ফোরণ এবং প্রতিপক্ষকে দানব বানানোর তাড়াহুড়ো—তা সাধারণ মানুষের কাছে নিছক পরিহাস ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।
আসলে আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র, সুবিধাবাদী গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের মূল সমস্যা হলো—তারা সত্যের চেয়ে সুবিধার পক্ষে অবস্থান নিতে বেশি ভালোবাসে। অত্যাচার যখন ক্ষমতাসীনরা করে, তখন তারা তাকে বলে ‘উন্নয়নের মূল্য’; আর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ যখন ন্যায্য অধিকারের কথা বলে, তখন তাকে আখ্যা দেওয়া হয় ‘অস্থিরতা’। আশফাকের মতো সচেতন নাগরিকদের আকুতি এখানেই যে, এই ভণ্ডামি আর সুবিধাবাদের আবরণ ছেড়ে সমাজ এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার সংস্কৃতি যেন অবশেষে মানুষ হওয়ার মৌলিক চরিত্রটুকু অর্জন করে।
রাজনীতিতে ক্ষমতার মসনদ বদলায়, নতুন শ্লোগান আসে, কিন্তু মানসিকতার এই রূপান্তর না ঘটলে কেবল নামই বদলাবে—ব্যবস্থার কোনো বদল হবে না। যারা কাল অন্যায়ের সামনে চুপ ছিল আর আজ সত্যের বিরুদ্ধে চিৎকার করছে, তাদের আত্মপর্যালোচনা করা জরুরি। কারণ অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতা করে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো দিন মানবিক হতে পারে না।
মানুষের ছদ্মবেশে রাজত্ব চালানো যায় ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে ইতিহাস মানুষের হিসাবটাই চায়। কোনো জাতি যদি ষোলো বছরের দাসত্ব ভুলে এক রাতের প্রতিবাদে উত্যক্ত হয়ে ওঠে, তবে সেই জাতির ভবিষ্যৎ আবারও নতুন কোনো দানবের পদতলেই পিষ্ট হতে বাধ্য।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

রম্য

27/07/2025

🌿 নীরব আর্তনাদ: ২৩ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু না বলা সত্য
=================================
আমি গত ২৩ বছর ধরে নানা বয়স, শ্রেণি ও পটভূমির মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি—সেবা দিয়েছি, সহানুভূতি দেখিয়েছি, পাশে দাঁড়িয়েছি। এই দীর্ঘ যাত্রায় আমি দেখতে পেয়েছি এমন অসংখ্য মানুষ, যারা সমাজের চোখে “নাজুক” — অথচ মানুষ হিসেবেই তাদের মূল্যায়ন করা হয় না।

এই মানুষগুলো বিভিন্ন জায়গায়, সময়ে ও পরিবেশে নানা ধরনের পীড়নের শিকার হন।
আর সবচেয়ে দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য হলো—এই পীড়নের পেছনে বহুক্ষেত্রেই দায়ী থাকে নিজস্ব পরিবার, যার কাছে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল।

তাই আমি এখন লিখতে চাই, বলতে চাই, এই অব্যক্ত পীড়নের গল্প—যা হয়তো কেউ বলতে চায় না, আর কেউ শুনতেও চায় না।

❗ “পীড়ন” বলতে আমরা কী বুঝি?

পীড়ন মানেই কেবল গায়ে হাত তোলা নয়।
এটি হতে পারে ঠাণ্ডা অবহেলা, অপমানজনক কথা, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কিংবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া—সবই পীড়ন, যদি তা কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে, মর্যাদাকে পদদলিত করে বা তাকে দুর্বল ও নিয়ন্ত্রণাধীন করে তোলে।

পীড়ন মানে কারও স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর হস্তক্ষেপ—ইচ্ছাকৃত, ধারাবাহিক এবং ধ্বংসাত্মক।

💬 কেন “Abuse” এর বাংলায় “পীড়ন” শব্দটি ব্যবহার করছি?

ভাষার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে “পীড়ন” শব্দটি অনেক বেশি উপযুক্ত। এটি শ্রুতিমধুর, সহজে উচ্চারিত ও দৈনন্দিন ব্যবহারে বেশি প্রচলিত। আমরা যেমন বলি “আর্থিক পীড়ন”, “মানসিক পীড়ন” বা “শারীরিক পীড়ন”—তেমনই এ শব্দগুলোতে অর্থের গভীরতা ও স্পষ্টতাও থাকে।
অন্যদিকে, “নিগ্রহ” শব্দটি কিছুটা পুরাতন সাহিত্যধর্মী ও জটিলতা বোধক, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আলোচনায় ভারী ও দূরত্ব তৈরি করে।
বিশেষ করে প্রবীণ পীড়ন বা পারিবারিক পীড়নের মতো প্রসঙ্গে “পীড়ন” শব্দের ব্যবহারই আজকের সমাজে বোধগম্য, প্রাসঙ্গিক ও মানবিক।

🔍 পীড়নের ধরন কত রকম?

আমরা অনেকেই ভাবি পীড়ন মানেই গায়ে হাত তোলা, চিৎকার করা বা যৌন হয়রানি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, পীড়নের অনেক রূপ আছে—যার অনেকগুলো আমাদের চোখের সামনেই ঘটে, কিন্তু আমরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

একজন প্রবীণ বাবা নিজের পেনশনের টাকা ছেলে নিয়ন্ত্রণ করলেও কিছু বলতে পারেন না।
একজন মা বারবার অনুরোধ করেন ওষুধ এনে দেওয়ার জন্য, কিন্তু বাড়ির কেউই তা গুরুত্ব দেয় না।
একজন বৃদ্ধা ঠাণ্ডা ভাত খেয়ে চুপচাপ বসে থাকেন—কারণ নাতির গেম চলতেছে বলে কেউ গরম করে দিতে চায় না।

এগুলো কি পীড়ন নয়?

🔦 কিছু পীড়নের ধরন, যেগুলো আমরা অনেক সময় বুঝিই না:
১। আর্থিক পীড়ন – প্রবীণদের আয় বা সম্পত্তি দখল করে রাখা, অথচ নিজের মতো ব্যবহার করা

২। মানসিক পীড়ন – কথা বললে “বয়স হয়েছে, চুপ থাকো” বলা

৩। সামাজিক পীড়ন – আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা

৪। চিকিৎসাগত পীড়ন – প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসা না দেওয়া

৫। ভাষাগত পীড়ন – বারবার “তুমি কিছুই বোঝো না” বলা

৬। সাংস্কৃতিক পীড়ন – নিজস্ব পোশাক, ভাষা বা বিশ্বাস নিয়ে উপহাস করা

৭। তথ্য বা সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত পীড়ন – পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্রবীণদের মত নেওয়া হয় না

৮। ভবিষ্যৎ অস্বীকৃতি – “এই বয়সে আর কিছু হবে না, খামোখা চিকিৎসা কেন?”

৯। ভবিষ্যৎকে জোর করে তৈরি করা পীড়ন – “তুমি এখন থেকে এই ঘরে থাকবে, কোথাও যেতে পারবে না”

এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। কারণ পীড়নের রূপ যতই বদলায়, তার মূল ঠিক একই রয়ে যায়—একজন মানুষকে তার স্বাধীনতা ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করা।

✊ আমরা কী করতে পারি?
• প্রথম কাজ, চোখ খুলে দেখতে শেখা—নীরব পীড়নের সংকেতগুলো বুঝতে হবে।
• তারপর, ভাষায় এবং আচরণে মানবিক হওয়া—প্রতিদিনের কথায় যেন অপমান না থাকে।
• পরিবারে প্রবীণদের জন্য সময় রাখা, তাদের সম্মান দেওয়া, নিজের আচরণে পরিবর্তন আনা।
• রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে প্রবীণদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

🌱 শেষ কথা:

আমার এই লেখা, এই কথা বলা, এই প্রতিরোধ গড়ার প্রয়াস—এটি শুধু এক ব্যক্তির চিন্তা নয়।
এটি সেই অগণিত মুখের প্রতিনিধি, যারা প্রতিদিন পীড়নের শিকার হলেও চুপ থাকে।
যারা ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যায়, মিশে যায় দেয়ালের সঙ্গে—কিন্তু বুকের ভিতর চিৎকার করে ওঠে।

আমি তাদের হয়ে লিখব, আমি তাদের হয়ে বলব।
কারণ পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে শুধু অন্য কারও পাশে দাঁড়ানো নয়—বরং নিজেকেও আরও মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা।

🔔 আপনি যদি এই পথচলায় আমার সঙ্গী হন, তাহলে আমরা একসাথে অসংখ্য নীরব আর্তনাদকে আওয়াজ দিতে পারব।
চলুন, পীড়নের মুখোশ খুলে ফেলি।

Address

2
Luton
LU48FY

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Prime Time at Sixty posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share