08/08/2026
ওষুধ কোম্পানির স্বার্থটাই দেখল বিএনপি সরকার।
সাতমাস আগে ইন্টেরিম সরকার জরুরি ওষুধের তালিকাটা বড় করেছিলো।
১১৭ থেকে বাড়িয়ে করেছিলো ২৯৫।
কথা ছিল এসব ওষুধ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হবে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসারসহ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ ছিল এই তালিকায়।
কিন্তু ৩ আগস্ট সরকার সেই তালিকাই বাতিল করে দিয়েছে।
ফলে ১৭৮টি জরুরি ওষুধ আবার সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।
এতে ওষুধ কোম্পানিগুলো বেশ খুশি। ওষুধ মালিকদের সংগঠন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
তারা আগের মতোই ইচ্ছামত এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করতে পারবে।
তবে এর খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে।
দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের ৮০ শতাংশই সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যায়।
এর দুই ভাগের তিনভাগই যায় ওষুধ কিনতে।
সেই ১৯৯৪ সালে ১১৭ টি ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল।
এরপর বাজারে জরুরি আরো অনেক ওষুধ এসেছে।
সেগুলোর দামের উপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
এ কারণেই জরুরি ওষুধের তালিকা বড় করাটা প্রয়োজন ছিল।
সরকার বলছে, নতুন তালিকা তৈরির সময় জাতীয় ওষুধ পরামর্শক কাউন্সিলের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি।
কিন্তু সেই কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সরকার নতুন তালিকাটি বাতিল করেছে।
অথচ সরকার চাইলে কাউন্সিলের সাথে পরামর্শ করতে পারত।
প্রয়োজনে তালিকাটা সংশোধন করতে পারত।
কিন্তু সেটি না করে পুরো তালিকাটিই বাতিল করে দিল।
এখন বলা হচ্ছে, নতুন করে জরুরি ওষুধের তালিকা করা হবে।
কবে হবে, তা অবশ্য বলা হয়নি।
যতদিন তা না হবে, ওষুধ কোম্পানিগুলোরই সুবিধা।
এতে স্পষ্ট হয়ে গেল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের চেয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাটাই প্রধান।
সাংবাদিক কল্লোল মোস্তফা