19/07/2025
হঠাৎ যুদ্ধ বেঁধে গেলে তখন কিন্তু আর প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ থাকে না? সেনাবাহিনী একইসঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং যুদ্ধ করতে পারে না! একইভাবে মানবদেহ যুগপৎ শক্তি উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা গড়তে পারবে না।
একসঙ্গে দুই করার চেষ্টা আত্মঘাতী পদক্ষেপ। একসঙ্গে দুইটি খরগোশকে ধরার চেষ্টা করলে একটাও ধরতে পারবেন না। এমনকি দুই নৌকায় পা দিলে সুনির্দিষ্ট কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না!
ঠিক এই কারণেই রোগাক্রান্ত অবস্থায় ভারী খাদ্যগ্রহণে পূর্ণ বিরতি দেওয়া উচিত। কেননা শরীর খাদ্যের হজম প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ করতে অপারগ। রোগাক্রান্ত শরীরে খাদ্য ঢোকানো মানে রোগকেই শক্তি যোগানোর মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমাদের করণীয় হলো মুখ দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে (যেমন ইঞ্জেকশন) বাইরে থেকে (শরীরে শক্তি যোগানোর অজুহাতে) ভারী খাবার ঢোকানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। শরীরকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখলে শরীর তার নিজস্ব (জমাকৃত) শক্তিতেই রোগমুক্ত হতে পারবে ইনশাল্লাহ। এ সময় রোগীকে সবোর্চ্চ কিছু তরল খাবার (যেমন লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে হালকা কুসুম গরম পানি অথবা তাজা সবুজ পাতার রস অথবা রসালো ফলের রস) পান করতে দেওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি অবশ্যই দোয়া ও দান অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাল্লাহ।
এই নিয়মটা মানুষ হয়েও আমরা জানি না, কিন্তু বনের পশুরা ঠিকই জানে! সে কারণে অসুস্থ হলে তারা প্রথমেই খাদ্যগ্রহণে পূর্ণ বিরতি দেয় এবং প্রাকৃতিক নিয়মে আবার সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে।
পুনশ্চ :- আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে স্বীকৃত হিপোক্রেটিস উপরোক্ত নিয়মেই চিকিৎসা করতেন। কিন্তু এখনকার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী চিকিৎসকেরা হিপোক্রেটিসের নামে শপথ নিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করলেও বাবার শিখিয়ে দেওয়া পদ্ধতি মানেন না!
চিকিৎসার নামে খাদ্যগ্রহণে বিরতি দেওয়ার পরিবর্তে কেমিক্যালের তৈরি নানা রকম সিন্থেটিক ড্রাগস রোগীর শরীরে নানান উপায়ে জোড়পূর্বক ঢোকাতে থাকেন। তাঁদের এই প্রচেষ্টার কারণে রোগের লক্ষণ ধামাচাপা পড়লেও প্রকৃতপক্ষে রোগ কিন্তু নিরাময় হয় না। অথচ লক্ষণ ধামাচাপা দেওয়াকেই রোগের চিকিৎসা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়..!