04/10/2026
জ্বীন জাদুর রোগ যে কতটা ভয়ংকর তা কেবল সেই ভুক্তভোগীরাই বুঝে! মেডিকেল চিকিৎসায় ১০/১৫ লাখ খরচ করতে দ্বিধা না করলেও জ্বীন-জাদুর রুকইয়াহ চিকিৎসায় ৫-১০ হাজার হাজার টাকা খরচ করতেও যেন আত্মা কেঁপে উঠে। খুবই আফসোস লাগে। মানুষ কবে বুঝবে। আমি বলছি না আপনারা আক্রান্ত হয়ে আমাদের বা রাক্বীদের কাছে আসেন। আমরা সবসময় বলি আপনি নিজে নিজেই কিছু সহজ আমলের মাধ্যমে এসব থেকে বেঁচে থাকুন। আক্রান্ত হওয়ার আগে বেঁচে থাকা খুবই সহজ। অল্পকিছু সহজ আমলের মাধ্যমেই বেঁচে থাকা যায়। কিন্তু আক্রান্ত হয়ে গেলে এবং আক্রান্ত থাকতে থাকতে সমস্যা যখন জটিল হয়ে যায় তখন সুস্থ হতে কখনো কখনো অনেক সময় লেগে যায়। তবে আক্রান্ত হয়ে যত দ্রুত সম্ভব সঠিকভাবে রুকইয়াহ শুরু করতে পারলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়।
অনেক মানুষ আজ অসুস্থ। বছরের পর বছর চিকিৎসা করেও সুস্থ হচ্ছে না। ওষুধের উপরেই অনেকেই ঠিকে আছে। অনেক বাচ্চা জন্মের পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে, অনেকেই জন্ম থেকেই ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। অনেক বাচ্চার অটিজম, এডিএইচডি, ব্রেইন ডেভলপম হয়না, অনেক বাচ্চা অতিরিক্ত কান্না করে ইত্যাদি। এইগুলো কি জ্বীন জাদুর প্রভাবে হয়না? হতে পারে না? হ্যা এইগুলো মেডিকেল সংক্রান্ত কারণেও হয়। কিন্তু জ্বীন, জাদু এবং বদনজরের প্রভাবেও হতে পারে।
আপনি তো টাকা ইনকাম করার জন্য ৩০/৩৫ বছর পড়াশোনা করেছেন কিন্তু সংসার জীবন, বাচ্চা লালন-পালন নিয়ে কি একটু পড়ালেখা করেছেন? ইসলামে জীবনের কি নির্দেশনা দেওয়া আছে, কার কি এবং কতটুকু হক আছে সে সম্পর্কে কি একটু জানাশোনা করেছেন? জ্বীন জাদু থেকে বেঁচে থাকার আমল সম্পর্কে জেনেছেন? আপনাকে তো দুনিয়ার সবকিছু একেবারে পুরোপুরি জানতে হবে না। অন্তত বেসিক টা তো জানা থাকা দরকার। অন্তত সুস্থতা অসুস্থতা, রোগব্যাধি, সংসার জীবন এবং বাচ্চা লালন-পালন এর বেসিক জ্ঞানটুকু তো অর্জন করা দরকার ছিল।
আজ অনেক উচ্চশিক্ষিত মুসলমানরাও বিয়ে কি, কিভাবে হয়, তালাক কি, কিভাবে দিতে হয় সে সম্পর্কে কিছুই জানে না। ফলে একটু ঝামেলা হলেই রাগের মাথায় তিন তালাক দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আফসোস করে। অনেকেই তো এরপর আবার একত্রে হারাম ও যিনার সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এক তালাক দিলেই তালাক হয়ে যেতো। পরবর্তীতে চিন্তা করার সুযোগ থাকতো। সংসার নাও করতে পারতো অথবা চাইলে আবার বৈধভাবে সংসার করতে পারতো। অথচ অনেকেই মনে করে তিন তালাক দিলেই কেবল তখন তালাক হয় আর না হয় তালাক হয়না। তিন তালাক দিলেই কেবল সম্পর্ক ছিন্ন হয় অন্যান্য বিবাহ থেকে যায়। হায় আফসোস।
তেমনি যদি ছোট থেকেই বা আক্রান্ত হওয়ার আগেই জ্বীন জাদু ও বদনজর থেকে বেঁচে থাকার সকাল-সন্ধ্যা, ঘুমের পূর্বে এবং অন্যান্য সময়ের সহজ কিছু মাসনুন আমল করতো তাহলে আল্লাহ চাহে তু কখনো আক্রান্ত হতো না। আর আক্রান্ত হয়ে গেলেও এসব সম্পর্কে জানা থাকাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হতো এবং সহজেই সুস্থও হওয়া যেতো। অনেকেই আজ জ্বীন, জাদু বা বদনজরে আক্রান্ত হয়ে নিজের জীবনের বা সন্তানের অসুস্থতায় কষ্ট পাচ্ছেন। ভিটে বাড়ি বিক্রি করেও সুস্থ হতে পারছেন না। বিশেষ করে বাচ্চাদের এসব যন্ত্রণা আর কষ্টের কথা শুনলে আমার দুমরে মুচড়ে যায়। আক্রান্ত হওয়ার পরও অনেকেই বুঝতে পারেন না বা এসবে পাত্তা দেয় না।
অন্তত আপনি শিক্ষিত মানুষ হিসেবে কুরআন-হাদীস একটু ঘেঁটে দেখলেই তো পারেন। কারো কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই। কিন্তু আপনি জ্বীন-জাদু ও বদনজর সংক্রান্ত আয়াত হাদীস গুলো একটু পড়লেই তো বুঝতে পারেন। কুরআন ও হাদীসের অসংখ্য জায়গায় এসবের আলোচনা এসেছে। এসব নিয়ে পড়াশোনা করলে পিএইচডি করা যাবে। আপনার তো পিএইচডি করার দরকার নেই। অন্ততপক্ষে নিজের ও নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা ও সুস্থতার জন্য বেসিক টা তো জানা দরকার! যদি একটু মানুষ একটু সতর্ক, সচেতন জীবনযাপন করতো এবং জ্বীন-জাদু ও নজর-হাসাদ থেকে বেঁচে থাকতো অনেকেই অসুস্থই হতো না। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই অসুস্থ। সারাজীবন চিকিৎসা যেতে হচ্ছে। এরপরও কষ্ট থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।
মনে রাখবেন মেডিকেল বা প্রাকৃতিক চিকিৎসা ভিন্ন কিছু নয়। এইগুলোও আল্লাহরই সৃষ্টি। আপনি যদি ফার্মিসির সব ওষুধ খেয়ে ফেলেন এবং যতবড় ডাক্তারই দেখান না কেন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুস্থতা না আসলে আপনি কখনই সুস্থ হতে পারবেন না। প্রায় সব হাসপাতাল, ক্লিনিকে কুরআনের শিফা সম্পর্কিত আয়াত এবং বিভিন্ন হাদীস লেখা থাকতে দেখি, কিন্তু বাস্তব বিশ্বাসে সেটা খুবই কম এবং দুর্বল। প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং রুকইয়াহ দুটোই আল্লাহর সৃষ্টি। যিনি প্রকৃতির মধ্যে আরোগ্য রেখেছেন তিনিই কোরআনের মধ্যে শিফা রেখেছেন।
আপনার মেডিকেল সংক্রান্ত সমস্যা হলে আপনি কোরআন দিয়ে চিকিৎসা করতে পারবেন না এবং প্যারানরমাল সমস্যা হলে মেডিকেল চিকিৎসা করার দরকার নেই বিষয়টা এরকম নয়। বরং যে কোন সমস্যায় আপনি দুটো চিকিৎসাই গ্রহণ করতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক সমস্যা বা মেডিকেল সংক্রান্ত সমস্যা জন্য আপনি মৌলিকভাবে মেডিকেল চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, সেই সাথে পাশাপাশি আপনি কোরআন দিয়েও চিকিৎসা করতে পারেন। আবার প্যারানরমাল বা জিন জাদু বদনজরের সমস্যা হলে মেইনলি আপনাকে কোরআন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে, রুকইয়াহ করতে হবে। জ্বীন, জাদু বা বদনজরের সমস্যায় আপনি মেডিকেল চিকিৎসা করে কখনোই কোনো উপকার পাবেন না, স্থায়ী সমাধান হবেনা। তবে প্রয়োজনে মেডিকেল চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারে। এমনকি অনেক সময় জ্বীন-জাদুর সমস্যা হলেও মেডিকেল চিকিৎসা গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
আপনি কবে বুঝবেন!?
আল্লাহ তাআলা সবাইকে বোঝার জন্য জ্ঞান দান করুন।
Mufti Abu Rawad