26/07/2026
শুরুর দিকে মনে হতো, ছেলেটা যেন বদলে গেছে।
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ২৬ বছরের এক তরুণ। অফিসে সবার আগে আসে, সবার শেষে বের হয়। এক রাতে যে কাজ শেষ করতে তিন দিন লাগত, এখন সে এক রাতেই শেষ করে। সহকর্মীরা বলে, "ও তো অসাধারণ! যেন কোনো ক্লান্তিই নেই।"
কিন্তু কেউ জানত না, এই অতিরিক্ত কর্মক্ষমতার পেছনে ছিল ইয়াবা।
শুরুর দিকে ইয়াবা মস্তিষ্কে ডোপামিন ও নরঅ্যাড্রেনালিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। তাই মানুষ নিজেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমী ও অদম্য মনে করতে পারে। মনে হয়, ঘুমের দরকার নেই, ক্লান্তি নেই, কাজের গতি আগের চেয়ে অনেক বেশি।
কিন্তু মানুষ কেন বারবার ইয়াবা খেতে বাধ্য হয়?
কারণ, ইয়াবা মস্তিষ্কের Reward Circuit-কে এমনভাবে বদলে দেয় যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আনন্দের অনুভূতি কমে যেতে থাকে। পরিবার, বন্ধু, সাফল্য, প্রিয় খাবার কিংবা অবসর—যেগুলো আগে আনন্দ দিত, সেগুলো আর আগের মতো ভালো লাগে না। তখন মস্তিষ্ক আবার সেই কৃত্রিম ডোপামিনের বন্যা চায়। শুধু আনন্দ পাওয়ার জন্য নয়, স্বাভাবিক অনুভব করার জন্যও আবার ইয়াবা নিতে ইচ্ছা করে। এভাবেই শুরু হয় আসক্তির চক্র।
একই সঙ্গে বদলাতে থাকে মস্তিষ্কের Prefrontal Cortex এর কার্যকারিতা, কমতে থাকে বিচারবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
Hippocampus এর ওপর প্রভাব পড়লে স্মৃতি ও শেখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
Amygdala পরিবর্তনের কারণে বাড়তে পারে উদ্বেগ, রাগ, অকারণ ভয় ও সন্দেহ।
দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কারও কারও ক্ষেত্রে মাদকজনিত গুরুতর মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে।
তাহলে এই কৃত্রিম ডোপামিনের বিকল্প কী?
ইয়াবার মতো কৃত্রিম ডোপামিনের কোনো নিরাপদ বিকল্প নেই। তবে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, অর্থবহ কাজ, নতুন কিছু শেখা, শখের চর্চা, সামাজিক যোগাযোগ, আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—এসব ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক পুরস্কারব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এগুলো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা দেয় না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সত্যিকারের সুস্থ করে তোলে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকেই মনে করেন, শুধু ইচ্ছাশক্তি থাকলেই ইয়াবা ছাড়া যায়। বাস্তবে আসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য মস্তিষ্কের রোগ।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীর আসক্তির মাত্রা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, সাইকোসিস বা অন্য মানসিক জটিলতা চিকিৎসা করেন।
আবার হঠাৎ ছেড়ে দিলে দেখা দেয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। মাদক ব্যবহারে রয়েছে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি। সেগুলো চিকিৎসার জন্যও প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা।
ঔষধের পাশাপাশি দরকার হয় কাউন্সেলিং ও মোটিভেশনাল থেরাপি, পুনরায় মাদক গ্রহণের ঝুঁকি বা রিল্যাপ্স প্রতিরোধ এর কৌশল শেখানো এবং পরিবারকে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা।
এই সমন্বিত চিকিৎসাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত কার্যকর পদ্ধতি।
মনে রাখবেন—
ইয়াবা মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে না; এটি সাময়িকভাবে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে প্রতারণা করে।
আজ যে মানুষটি নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে করছে, কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর সেই মানুষটিই নিজের সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক, কর্মজীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে।
দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
ডা. মুনতাসির খান
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা
০১৬৮৪৩২০৮৫৭
#চেম্বারঃ কগনিটিভ কিউর
ঠিকানাঃ বাড়ি ৪, রাস্তা ৭, ব্লক এল, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা
যোগাযোগঃ 01684-320857
সময়: রাত ৭ টা থেকে ১০ টা, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বন্ধ।
#চেম্বারঃ ফরাজি হাসপাতাল (ভবন ২)
ঠিকানা: ব্লক জি, প্লট ৬১, রাস্তা ৪, ঢাকা ১২১৯
যোগাযোগ: 09606990000, 01905597001
সময়: রবি, সোম, মঙ্গল। বিকাল ৪ টা - ৬ টা।
#চেম্বারঃ ইয়ামাগাতা হাসপাতাল
ঠিকানা: মেরাদিয়া বাজার, ইয়ামাগাতা মোড়, বনশ্রী, ঢাকা
যোগাযোগ: 01805991800
সময়: শনি, বুধ (সন্ধ্যা ৬:০০ - ৮:০০ টা)
#চেম্বারঃ ফাতেমা মেডিকেল সেন্টার, শরীয়তপুর সদর
প্রতি শুক্রবার ১০ টা থেকে ৩ টা
যোগাযোগঃ 01707073568, 01964646400