05/10/2026
⛔কোয়ালিটি বনাম কমার্শিয়াল চেইন: আমার সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতা
গত সপ্তাহে চিকিৎসার প্রয়োজনে এবং কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটার কারণে পর পর বেশ ক'দিন বাইরেই দুপুরের খাবার (লাঞ্চ) ও রাতের খাবার (ডিনার) সারতে হয়েছিল।
একদিন রাতের খাবার খেয়েছিলাম বসুন্ধরা সিটির ফুড কোর্টে। মেনুতে ছিল কাবাব, নান আর বিরিয়ানি। অন্য আরেকদিন দুপুরে ধানমন্ডির বেশ নামকরা একটি রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করি, যেখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমাদের পছন্দের পোলাও, রোস্ট, কাবাব ও খাসির তেহারি অর্ডার করা হয়েছিল।
রেস্টুরেন্টগুলোর প্রাইসিং মোটেও সস্তা ছিল না—একটি ভালো ও নিখাদ খাবারের অভিজ্ঞতার আশাতেই এমন স্বনামধন্য জায়গায় যাওয়া।
কিন্তু দুই জায়গাতেই একটি বিষয় আমাকে চরমভাবে হতাশ ও বাকরুদ্ধ করেছে। তা হলো খাবারগুলোর চাল! চালের সাইজ ছিল বেশ মোটা, আর সুগন্ধি পোলাও চালের যে নিজস্ব মন মাতানো ঘ্রাণ থাকার কথা, তার ছিটেফোঁটাও ছিল না। আর গোস্তগুলো খাবার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছিল প্লেট চামচের সাথে। প্লেটে খাবার আসামাত্র হাতে নিয়ে বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে একটি নামকরা রেস্টুরেন্ট এ ধরনের চাল ব্যবহার করতে পারে!
অথচ এই রেস্টুরেন্টগুলোতে বসার মতো বিন্দুমাত্র জায়গা নেই, উপচে পড়া ভিড়! মানুষ চড়া দাম দিয়ে এই মানের খাবারগুলোই প্রতিনিয়ত সানন্দে খেয়ে যাচ্ছে, কারো যেন কোনো অভিযোগই নেই।
আমরা যারা সততার সাথে অনলাইনে 'হোমমেড ফুড' (Homemade Food) বিজনেস করি, আমাদের প্রথম ও প্রধান প্রায়োরিটি থাকে কোয়ালিটি ও হাইজিন মেইনটেইন করা। পরিচ্ছন্নতা, চাল ও মশলার মান কিংবা স্বাদের দিক থেকে সামান্যতম ছাড় দেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। ক্লায়েন্টরাও হোমমেড ফুডের কাছ থেকে একদম খাঁটি ও কোয়ালিটিফুল খাবারটাই প্রত্যাশা করেন এবং আমরাও মনপ্রাণ দিয়ে সেই মান ধরে রাখার চেষ্টা করি।
সে জায়গায় এত বড় বড় বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্টগুলোর এমন আপস দেখে সত্যি খুব অবাক হতে হয়! মাঝে মাঝে কনফিউজড লাগে—আমরা কি কোয়ালিটি নিয়ে একটু বেশিই সিরিয়াস, নাকি কমার্শিয়াল রেস্টুরেন্টগুলোর স্বাদ ও মানের এই অধঃপতন দেখেও সবাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।