30/09/2026
বাচ্চা কি কানে হাত দিয়ে অঝোরে কাঁদছে? হতে পারে এটি কানের ইনফেকশন!
বাচ্চারা বা ছোট শিশুরা অনেক সময় তাদের কষ্টের কথা মুখে বলতে পারে না। শুধু কান্নাকাটি করে বা অস্থির হয়ে যায়। বিশেষ করে কানের ব্যথায় শিশুরা খুব কষ্ট পায়। সর্দি-কাশি বা গোসলের সময় কানে পানি ঢোকা থেকে শিশুদের কানে ইনফেকশন বা 'ওটাইটিস মিডিয়া' (Otitis Media) হতে পারে।
বাবা-মা হিসেবে আমাদের একটু সচেতনতাই পারে সোনামণিকে এই অসহ্য ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে।
কীভাবে বুঝবেন বাচ্চার কানে সমস্যা হচ্ছে? (লক্ষণসমূহ)
বাচ্চা যদি কথা বলতে না পারে, তবে নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:
১. অকারণে খুব কান্নাকাটি করা এবং অস্থির হয়ে থাকা।
২. বারবার কানে হাত দেওয়া বা কান টানা।
৩. কানের ভেতর থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বা পানি বের হওয়া।
৪. সর্দি-কাশির সাথে জ্বর থাকা।
৫. নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া বা কম শোনা।
৬. খাওয়ার সময় কান্নাকাটি করা (গিলতে গেলে কানে চাপ লাগে বলে)।
কানের ইনফেকশন সময়মতো চিকিৎসা না করালে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে:
- শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া: বারবার ইনফেকশন হলে বাচ্চার শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা তার কথা বলা শিখতেও দেরি করিয়ে দেয়।
- কানের পর্দা ফেটে যাওয়া: ইনফেকশনের চাপে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে।
- ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়া: কানের ইনফেকশন মস্তিষ্কে বা কানের পেছনের হাড়ে ছড়িয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
✅ যা যা করবেন (করণীয়)
১. বুকের দুধ খাওয়ানো: একদম ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধ কানের ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে। শুয়ে শুয়ে দুধ খাওয়াবেন না, এতে কানে দুধ গড়িয়ে ইনফেকশন হতে পারে। মাথা একটু উঁচিয়ে খাওয়ান।
২. শুকনো রাখা: গোসলের পর বাচ্চার কান তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে দিন। কানের বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখুন।
৩. ডাক্তারের পরামর্শ: বাচ্চার কানে ব্যথা বা অস্বস্তি দেখলে দেরি না করে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
৪. সঠিক চিকিৎসা: ডাক্তারের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক বা ড্রপ পূর্ণ মেয়াদে ব্যবহার করুন। মাঝপথে বন্ধ করবেন না।
❌ যা যা একদম করবেন না (বর্জনীয়)
১. কটন বাড ব্যবহার: ভুলেও বাচ্চার কানে কটন বাড, ম্যাচের কাঠি বা সেফটি পিন ঢোকাবেন না। এতে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে।
২. তেল দেওয়া: কানে সরিষার তেল বা অন্য কোনো তেল গরম করে দেবেন না। এতে ইনফেকশন আরও বেড়ে ফাঙ্গাস হতে পারে।
৩. জোরে নাক ঝাড়া: সর্দি থাকলে বাচ্চাকে জোরে নাক ঝাড়তে বারণ করুন। এতে কানের ওপর চাপ পড়ে।
৪. নিজের মর্জিমতো ওষুধ: ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামতো কানের ড্রপ কিনে ব্যবহার করবেন না।
শিশুর হাসিমুখ অমূল্য। কানের সামান্য ব্যথাও তাদের জন্য অনেক কষ্টের কারণ হতে পারে। তাই ঘরোয়া টোটকা বা অবহেলা নয়, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাই আপনার সন্তানের কান ভালো রাখবে।
আপনার বাচ্চার কানের যেকোনো সমস্যায় পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন:
ডাঃ মোঃ মেহেদী হাসান
🔸 সহযোগী অধ্যাপক
🔸 ইএনটি এবং হেড নেক সার্জারি বিভাগ
🔸 ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
🔸 এমবিবিএস (জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ)
🔸 এফসিপিএস (বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস )
🔸 কানের মাইক্রোসার্জারি, এন্ডোস্কোপিক ন্যাসাল সার্জারি, রাইনোপ্লাস্টি, থাইরয়েড ও হেড-নেক সার্জারি।
📍 চেম্বার:
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কল্যাণপুর
🕘 রোগী দেখার সময়সূচি
সকাল ৯:০০টা – দুপুর ১:০০টা
শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার
বিকাল ৪:০০টা – সন্ধ্যা ৭:০০টা
শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার
📞 অ্যাপয়েন্টমেন্ট: ০৯৬১০০০৯৬১৬
#শিশুরকান
#শিশুদেরযত্ন #কানেরযত্ন #কানেরসমস্যা #শিশুরকানব্যথা #শিশুরকানথেকেপানি