Arifa Islam Mona

Call Directions Website

Arifa Islam Mona This is an official Page of Arifa Islam Mona. লাইক দিয়ে আড্ডা দিতে পাশেই থাকুন � ধন্যবাদ আপনাকে আমার পেইজটিতে লাইক দেবার জন্য। বিনোদনের ভুবনে আপনাকে স্বাগতম।
(225)

 # # # 🌑 প্রতি বৃহস্পতিবারের মেহমান # # # পর্ব ৫: বাঁশবনের দেবতারায়হান, পেছনে তাকাস না!আম্মার চিৎকারে আমি দৌড়াতে শুরু কর...
21/10/2026

# # # 🌑 প্রতি বৃহস্পতিবারের মেহমান

# # # পর্ব ৫: বাঁশবনের দেবতা

রায়হান, পেছনে তাকাস না!

আম্মার চিৎকারে আমি দৌড়াতে শুরু করলাম। কিন্তু কবরস্থানের পথ যেন শেষ হচ্ছিল না। বাঁশবনের ভেতর থেকে ভেসে আসছিল ঢোলের শব্দ, অথচ আশপাশে কোনো মানুষ ছিল না।

হঠাৎ গ্রামের বৃদ্ধ মকবুল ফকির হারিকেন হাতে সামনে এসে দাঁড়ালেন।

তিনি আমার কপালে হাত রেখে বললেন, “তুই সেই সন্তান, যাকে শ্মশানের আগুন নয়, কবরের মাটি লুকিয়ে রেখেছিল। তোর জন্মের রাতে আকাশে চাঁদ ছিল না, আর গ্রামের সব কুকুর একসঙ্গে কেঁদেছিল।”

আমি কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলাম, “আমার পরিচয় কী?”

ফকির বাঁশবনের দিকে তাকালেন।

“এই গ্রামের উত্তরে আছে একটা পরিত্যক্ত মন্দির। তার পাশেই পুরোনো বটগাছ। লোককথা বলে, বহু বছর আগে এক সাধক সেখানে এমন এক শক্তিকে বন্দি করেছিলেন, যে মানুষের রূপ নিয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় করত। তোর আসল বাবা সেই রহস্য জানতে গিয়ে আর ফেরেননি।”

ঠিক তখনই বটগাছের ওপর থেকে একটা পেঁচা ডাকল।

আমার পকেটে রাখা পুরোনো নূপুরটা নিজে থেকেই বেজে উঠল।

আম্মা ফিসফিস করে বললেন, “এটা তো আরমানের নূপুর!”

ফকিরের মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল।

“তাহলে বিপদ আরও গভীর। মৃত শিশুটি তোকে নিতে আসেনি। সে তোকে সতর্ক করতে এসেছে।”

দূরে বটগাছের নিচে সাদা পোশাকের একজন নারী দেখা গেল। তাঁর চুল মাটি ছুঁয়ে আছে। তিনি হাত তুলে আমাকে ডাকলেন।

“রায়হান, তোমার বাবা বন্দি। আগামী বৃহস্পতিবারের আগে তাঁকে মুক্ত করো।”

আমি এক পা এগোতেই ফকির চিৎকার করলেন, “থাম! ওর পায়ের ছায়া দেখ!”

চাঁদের আলোয় নারীর শরীর দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু মাটিতে কোনো ছায়া ছিল না।

তিনি হেসে উঠলেন।

“বুদ্ধিমান ছেলে! তবে একটা কথা জানিস না, রায়হান। তোর বাবাকে মুক্ত করলে এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দরজায় বৃহস্পতিবার রাতে কে টোকা দেবে?”

ঠিক তখনই মসজিদের দিক থেকে ফজরের আজান ভেসে এল।

নারীটি মিলিয়ে যাওয়ার আগে শেষ কথাটা বললেন—

“তোর আসল বাবা মানুষ ছিলেন না, রায়হান!”

চলবে...

 # # # 📖 প্রতি বৃহস্পতিবারের মেহমান # # # পর্ব ৩: কবরস্থানের সেই শিশুটি“ভাইয়া, এত বছর ধরে তুমি আমার খাবার খেয়েছ। এবার আম...
20/10/2026

# # # 📖 প্রতি বৃহস্পতিবারের মেহমান

# # # পর্ব ৩: কবরস্থানের সেই শিশুটি

“ভাইয়া, এত বছর ধরে তুমি আমার খাবার খেয়েছ। এবার আমার সঙ্গে বাড়ি চলো।”

কথাটা শোনার পর আমার মনে হলো, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ এক মুহূর্তে থেমে গেছে।

কবরস্থানের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। বয়স পাঁচ কি ছয় বছর হবে। পরনে ময়লা সাদা জামা। মুখটা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে। অথচ সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, তার চোখ দুটো অবিকল আমার মতো।

আমি কাঁপা গলায় আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আম্মা, ও কে?”

আম্মা কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু আমার হাত ধরে ঘরের ভেতরে টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারপর ছিটকিনি লাগিয়ে মেঝেতে বসে পড়লেন।

আমি বললাম, “আম্মা, এবার সব খুলে বলো। আর কিছু লুকাবে না।”

আম্মা অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলতে শুরু করলেন।

“তোর জন্মের আগের বছর আমার একটা ছেলে হয়েছিল। নাম রেখেছিলাম আরমান। কিন্তু জন্মের সাত দিনের মাথায় ছেলেটা মারা যায়। তোর আব্বা নিজ হাতে তাকে আমাদের বাড়ির পেছনের কবরস্থানে দাফন করেছিলেন।”

আমি বললাম, “কিন্তু তুমি তো বললে, জন্মের পর কয়েক মিনিট বেঁচেছিল!”

আম্মা মাথা নিচু করলেন।

“আমি তোকে মিথ্যা বলেছি। আসলে আরমান সাত দিন বেঁচেছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তোর আব্বা এমন কিছু করতে শুরু করেন, যা আমি কোনোদিন বুঝতে পারিনি।”

“কী করতে শুরু করেছিলেন?”

“প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে কবরস্থানে যেতেন। ফিরে এসে বলতেন, ছেলেটা নাকি তাঁর স্বপ্নে আসে। খাবার চায়। প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি। কিন্তু এক বৃহস্পতিবার রাতে তোর আব্বা ফিরে এসে বললেন, আরমান শুধু খাবার চায় না, সে নাকি তার ভাইয়ের জন্যও অপেক্ষা করছে।”

আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

“কিন্তু আমার তো জন্মই হয়নি তখন!”

আম্মা আমার দিকে তাকালেন।

“সেটাই তো বুঝতে পারিনি, বাবা। তোর জন্ম হয়েছিল তার পরের বছর। আর তুই জন্মানোর পর থেকেই তোর আব্বা ভয় পেতে শুরু করেন।”

“কেন?”

আম্মা কাঁপা গলায় বললেন, “কারণ তোর জন্মের রাতে সেই অচেনা লোকটা এসেছিল। সে তোর আব্বাকে বলেছিল, মৃত ছেলেটার সঙ্গে তার ভাইয়ের একটা সম্পর্ক আছে। আঠারো বছর পূর্ণ হলে সেই সম্পর্কের হিসাব মেটাতে হবে।”

আমি অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইলাম।

“তাহলে আব্বা আমার জীবন নিয়ে চুক্তি করেছিলেন?”

“না, বাবা! তোর আব্বা কখনো তোকে দিতে চাননি। তিনি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন চুক্তিটা ভাঙার।”

“কীভাবে?”

আম্মা উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরে থেকে একটা শব্দ এল।

টক। টক। টক।

পেছনের দরজায় আবার তিনবার টোকা পড়েছে।

আমরা দুজনেই জমে গেলাম।

বাইরে থেকে সেই পরিচিত গলা শোনা গেল।

“মোবারক সাহেবের স্ত্রী, ছেলেটাকে নিয়ে বেরিয়ে আসুন। আজ আমাদের কথা শেষ করা দরকার।”

আম্মা আমার মুখ চেপে ধরলেন।

কিন্তু এবার লোকটা দরজায় দাঁড়িয়ে শুধু কথা বলছিল না। দরজার নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে কালচে একটা তরল ঘরের ভেতরে ঢুকতে শুরু করল।

আমি ভয়ে পিছিয়ে গেলাম।

লোকটা বলল, “আপনার স্বামী আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলেন, সেটা তাঁর নিজের ইচ্ছায় হয়েছিল। তিনি আমাদের কাছ থেকে এমন একটা জিনিস চেয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষের ভাগ্যে থাকে না।”

আমার মাথায় একটা প্রশ্ন এল।

আমি দরজার দিকে তাকিয়ে বললাম, “আব্বা তোমাদের কাছ থেকে কী চেয়েছিলেন?”

বাইরে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর লোকটা উত্তর দিল।

“মৃত ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে।”

আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

লোকটা আবার বলল, “তোমার আব্বা তাঁর প্রথম সন্তানকে হারানোর পর আমাদের কাছে এসেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, ছেলেটা যেন আবার ফিরে আসে। আমরা তাঁকে সুযোগ দিয়েছিলাম। বিনিময়ে শর্ত ছিল, তাঁর পরবর্তী সন্তান আঠারো বছর পূর্ণ হলে তাকে আমাদের কাছে আসতে হবে।”

আমি ফিসফিস করে বললাম, “তাহলে আরমানকে ফিরিয়ে আনার জন্য আব্বা আমাকে দিয়ে দিয়েছিলেন?”

লোকটা হেসে বলল, “তোমার আব্বা ভেবেছিলেন, আঠারো বছর অনেক দূরের কথা। এর মধ্যে হয়তো কোনো উপায় বের করতে পারবেন। কিন্তু সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।”

আম্মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “কিন্তু আরমান তো ফিরে আসেনি! তোমরা কথা রাখোনি!”

বাইরের লোকটা এবার গম্ভীর হয়ে গেল।

“সে ফিরে এসেছে। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে সে এই বাড়িতে আসে। আপনারা যে খাবার রেখে দেন, সে-ই খায়। কিন্তু আপনারা কখনো তাকে চিনতে পারেননি।”

আমি অবাক হয়ে বললাম, “তাহলে আজ খাবারটা পড়ে আছে কেন?”

লোকটা উত্তর দিল, “কারণ আজ সে আর খাবার খেতে আসেনি। আজ সে তার ভাইকে নিতে এসেছে।”

ঠিক তখনই ঘরের জানালায় একটা ছোট্ট হাত দেখা গেল।

সেই হাতের আঙুলগুলো কাচের ওপর ধীরে ধীরে আঁচড় কাটতে লাগল।

আমি জানালার দিকে তাকিয়ে দেখি, বাইরে সেই ছোট্ট ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে।

সে কাচের ওপাশ থেকে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।

তারপর ঠোঁট নাড়ল।

আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, সে বলছে—

“ভাইয়া, আব্বা তোমাকে সব বলেননি।”

আমার শরীরের সমস্ত শক্তি যেন হারিয়ে গেল।

আমি জানালার কাছে এগিয়ে যেতে চাইলে আম্মা আমাকে আটকে দিলেন।

“ওর দিকে তাকাস না! ও যা-ই বলুক, বিশ্বাস করিস না!”

আমি বললাম, “কিন্তু আম্মা, ও তো আমার ভাই!”

আম্মা চোখ বন্ধ করে কাঁদতে লাগলেন।

“ও আমার ছেলে ছিল, বাবা। কিন্তু ও আর আগের সেই আরমান নেই।”

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা এবার জোরে হেসে উঠল।

“সত্যিটা বলুন, মোবারক সাহেবের স্ত্রী। ছেলেটাকে আর কত দিন অন্ধকারে রাখবেন?”

আম্মা হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন।

আমি তাঁর হাত ধরে বললাম, “কোথায় যাচ্ছ?”

তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আজ আর কোনো মিথ্যা নয়।”

তারপর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপা গলায় বললেন, “আমি জানি, তোমরা কেন এসেছ। কিন্তু একটা কথা তোমরা জানো না।”

বাইরের লোকটা চুপ করে গেল।

আম্মা বললেন, “মোবারক তাঁর প্রথম সন্তানকে ফেরত চেয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তান জন্মানোর পর তিনি চুক্তিটা ভাঙার একটা উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন।”

আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

বাইরের লোকটা ধীরে ধীরে বলল, “কী উপায়?”

আম্মা আমার হাত শক্ত করে ধরে বললেন—

“যে সন্তানকে তোমরা নিতে এসেছ, সে মোবারক সাহেবের রক্তের উত্তরাধিকারী নয়।”

আমি হতবাক হয়ে গেলাম।

“আম্মা! তুমি কী বলছ?”

আম্মা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুই আমার পেটের সন্তান, বাবা। কিন্তু তোর জন্মের রাতে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তোর আব্বা তোকে কোথা থেকে পেয়েছিলেন, সেটা আমি কোনোদিন জানতে পারিনি।”

আমার মাথার ভেতর যেন বজ্রপাত হলো।

“তার মানে আমি তোমাদের নিজের সন্তান নই?”

আম্মা কেঁদে বললেন, “আমি তোকে নিজের সন্তানের মতোই বড় করেছি। কিন্তু তোর আব্বা শেষ রাতে আমাকে বলেছিলেন, তোর জন্মের সত্যিটা একদিন প্রকাশ পাবে।”

বাইরে তখন সম্পূর্ণ নীরবতা।

কিছুক্ষণ পর লোকটা বলল, “তাহলে মোবারক সাহেব আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন!”

তার কণ্ঠে এবার রাগ স্পষ্ট।

“তিনি আমাদের যে সন্তান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই ছেলে সে নয়। কিন্তু এই ছেলের শরীরে যে রক্ত বইছে, তার সঙ্গে আমাদের পুরোনো হিসাব জড়িয়ে আছে।”

আমি বুঝতে পারছিলাম না, আমার জীবনের কোন অংশটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা।

ঠিক তখনই দরজার নিচ দিয়ে একটা পুরোনো ছবি ঢুকে এল।

ছবিটা তুলে দেখি, সেখানে একজন অচেনা পুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর কোলে একটা নবজাতক শিশু। পাশে আরেকজন লোকের মুখ কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া।

ছবির পেছনে লেখা—

“যে শিশুকে কবর থেকে তুলে আনা হয়েছিল, তার আঠারো বছর পূর্ণ হলে তাকে তার আসল পরিচয় ফিরিয়ে দিতে হবে।”

আমি লেখাটা পড়ে আম্মার দিকে তাকালাম।

আম্মা ফিসফিস করে বললেন, “আল্লাহ! তাহলে তোর আব্বা সত্যিই সেই কাজ করেছিলেন!”

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোন কাজ?”

আম্মা উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরে থেকে সেই ছোট্ট ছেলেটার কান্না শোনা গেল।

“ভাইয়া, তুমি জানো না তুমি কে। তুমি যদি বৃহস্পতিবার রাতে কবরস্থানে না আসো, তাহলে শুধু তোমার নয়, আমাদের সবার সর্বনাশ হবে।”

দূরে মসজিদের ঘড়িতে রাত একটা বাজার শব্দ হলো।

তারপর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা শেষবারের মতো বলল—

“আগামী বৃহস্পতিবার তোমার আঠারো বছর পূর্ণ হবে। সেদিন তুমি জানতে পারবে, তোমার জন্ম হয়েছিল কি না... নাকি তোমাকে কবর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।”

সব শব্দ থেমে গেল।

আমি ধীরে ধীরে মেঝেতে বসে পড়লাম।

আমার সামনে তখন মাত্র সাত দিনের সময়।

আর সেই সাত দিনের মধ্যে আমাকে খুঁজে বের করতে হবে আমার আসল পরিচয়।

কিন্তু একটা প্রশ্ন আমাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল।

যদি আমি সত্যিই কবর থেকে ফিরে আসা কোনো শিশু হই, তাহলে এত বছর ধরে আমার সঙ্গে একই ঘরে থাকা আম্মা কি জানতেন, তাঁর নিজের ছেলের জায়গায় অন্য কেউ বড় হচ্ছে?

চলবে...

 # # # 📖 প্রতি বৃহস্পতিবারের মেহমান # # # পর্ব ২: আঠারো বছরের চুক্তিকাগজটা হাতে নিয়ে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম। মনে...
20/10/2026

# # # 📖 প্রতি বৃহস্পতিবারের মেহমান

# # # পর্ব ২: আঠারো বছরের চুক্তি

কাগজটা হাতে নিয়ে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম। মনে হচ্ছিল, কেউ আমার বুকের ভেতর থেকে হৃদপিণ্ডটা মুঠো করে ধরে রেখেছে।

আমি কাঁপা গলায় বললাম, “আম্মা, আব্বা কাদের সঙ্গে কথা দিয়েছিলেন? আমি কোথায় যাব? ওরা কারা?”

আম্মা কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু আমার হাত ধরে কাঁদতে লাগলেন।

আমি আবার বললাম, “আম্মা, তুমি সব জানো, তাই না? আজ আমাকে সব বলতেই হবে।”

আম্মা চোখ মুছে আমার দিকে তাকালেন। তারপর খুব নিচু গলায় বললেন, “তোর আব্বা আমাকে কথা দিয়েছিলেন, তোর আঠারো বছর হওয়ার আগে এই কথা কাউকে বলবেন না। আমি অনেকবার জানতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি কখনো পুরো ঘটনা বলেননি।”

“তাহলে তুমি কী জানো?”

আম্মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আমি শুধু জানি, তোর জন্মের রাতে আমাদের বাড়িতে একজন মেহমান এসেছিলেন। সেই রাতের পর থেকেই তোর আব্বা প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর জন্য খাবার রেখে আসতেন।”

আমি অবাক হয়ে বললাম, “আমার জন্মের রাতে?”

“হ্যাঁ। তোর জন্মের পর তোর আব্বা যখন তোকে প্রথম কোলে নিয়েছিলেন, তখন বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত প্রায় তিনটা। ঠিক সেই সময় পেছনের দরজায় তিনবার টোকা পড়েছিল।”

আমার গলা শুকিয়ে গেল।

“তারপর?”

আম্মা বললেন, “একজন পুরুষের গলা শোনা গিয়েছিল। তিনি তোর আব্বাকে বলেছিলেন, ‘মোবারক সাহেব, আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় হয়েছে।’”

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কিসের পাওনা?”

আম্মা মাথা নাড়লেন।

“সেটা আমি জানি না। তবে তোর আব্বা সেদিন অনেকক্ষণ বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে তোকে বুকে জড়িয়ে কাঁদছিলেন। আমি জীবনে কোনোদিন তোর আব্বাকে এভাবে কাঁদতে দেখিনি।”

আমি কাগজটা শক্ত করে মুঠো করে ধরলাম।

“তাহলে আব্বা আমাকে ওদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন?”

আম্মা এবার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোর আব্বা তোকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। তিনি কখনো স্বেচ্ছায় এমন কথা দিতে পারেন না।”

ঠিক তখনই ঘরের বাইরে থেকে একটা শব্দ এল।

খস... খস... খস...

মনে হলো, কেউ পেছনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মাটির ওপর কিছু টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

আম্মা আমার মুখ চেপে ধরলেন।

তারপর সেই পরিচিত পুরুষের গলা শোনা গেল।

“মোবারক সাহেবের স্ত্রী, আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলবেন না। ছেলেটা সব শুনেছে।”

আমার শরীর কেঁপে উঠল।

বাইরের লোকটা আবার বলল, “আপনার স্বামী আমাদের কথা দিয়েছিলেন। আমরা তাঁর কথার সম্মান রেখেছি। এত বছর ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার এসেছি। কখনো খাবারের অভাব রাখিনি। এবার আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পালা।”

আম্মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমার ছেলেকে ছেড়ে দিন। আপনাদের যা প্রয়োজন, আমাকে নিয়ে যান।”

বাইরে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা নেমে এল।

তারপর লোকটা হেসে উঠল।

সেই হাসিতে এমন কিছু ছিল, যা শুনে আমার মনে হলো, লোকটা কোনো সাধারণ মানুষ নয়।

সে বলল, “আপনাকে নিয়ে আমাদের কী হবে? চুক্তি হয়েছিল আপনার স্বামীর সঙ্গে। তাঁর রক্তের উত্তরাধিকারীই আমাদের সঙ্গে যাবে।”

আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না।

দরজার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলাম, “আপনারা কে? আমার কাছে কী চান?”

আম্মা আমাকে থামানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।

বাইরের লোকটা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল।

“বাহ! মোবারক সাহেবের ছেলে অবশেষে কথা বলল।”

তারপর দরজার নিচ দিয়ে আরেকটা কাগজ ঢুকে এল।

কাগজটা আগের চেয়ে অনেক পুরোনো। চারপাশে কালচে দাগ। মাঝখানে লাল কালিতে কয়েকটা লাইন লেখা।

আমি কাগজটা তুলে নিলাম।

প্রথম লাইনটা পড়েই আমার হাত থেকে কাগজটা পড়ে গেল।

সেখানে লেখা ছিল—

“আমি, মোবারক হোসেন, স্বেচ্ছায় আমার প্রথম সন্তানকে আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার রাতে তোমাদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম।”

নিচে আব্বার স্বাক্ষর।

আমি স্বাক্ষরটা চিনতে পারলাম। ছোটবেলায় আব্বার কাছ থেকে কতবার নিজের নাম লেখা শিখেছি!

এটা জাল হতে পারে না।

আমি আম্মার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললাম, “আব্বা কেন এমন করেছিলেন?”

আম্মা এবার আমার হাত ধরে বললেন, “তোর আব্বা তোকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, বাবা।”

“কীভাবে? এখানে তো লেখা আছে, তিনি আমাকে ওদের হাতে তুলে দেবেন!”

আম্মা কাঁপা গলায় বললেন, “পুরো চুক্তিটা পড়।”

আমি মাটিতে পড়ে থাকা কাগজটা তুলে নিলাম। নিচের দিকে আরও কিছু লেখা ছিল। এতক্ষণ ভয়ে খেয়াল করিনি।

সেখানে লেখা—

“নির্ধারিত রাতে সন্তানকে উপস্থিত করা না হলে, তার পরিবর্তে চুক্তিদাতার জীবন গ্রহণ করা হবে।”

আমি থমকে গেলাম।

তার নিচে আরেকটা লাইন।

“চুক্তিদাতা মৃত্যুবরণ করলে, উত্তরাধিকারীকে নিজ দায়িত্বে উপস্থিত হতে হবে।”

হঠাৎ আমার মাথায় একটা কথা বিদ্যুতের মতো ঝলসে উঠল।

আব্বা মারা গিয়েছিলেন বৃহস্পতিবারের রাত পেরিয়ে ফজরের আগে।

যে রাতে সেই অচেনা লোকটা দরজায় এসে তাঁকে ডেকেছিল।

আমি আম্মাকে বললাম, “আব্বা কি আমাকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন দিয়েছিলেন?”

আম্মা এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। আমার বুকে মাথা রেখে কাঁদতে লাগলেন।

“তোর আব্বা শেষ রাতে আমাকে বলেছিলেন, যদি তিনি ফিরে না আসেন, তাহলে যেন তোকে নিয়ে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাই। কিন্তু তিনি আমাকে এটাও বলেছিলেন, তোর আঠারো বছর হওয়ার আগে যেন তোকে কিছু না জানাই।”

আমি ফিসফিস করে বললাম, “তাহলে আমরা চলে যাই, আম্মা। আজই চলে যাই।”

আম্মা মাথা নাড়লেন।

“আমি চেষ্টা করেছিলাম, বাবা। তোর আব্বা মারা যাওয়ার পরদিনই তোকে নিয়ে মামার বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু গ্রামের শেষ সীমানায় পৌঁছানোর আগেই রাস্তার ওপর একটা লোক দাঁড়িয়ে ছিল।”

“কেমন লোক?”

আম্মা আমার চোখের দিকে তাকালেন।

“তোর আব্বার মতো দেখতে।”

আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।

“কী বলছ তুমি?”

“আমি নিজের চোখে দেখেছি। একই মুখ, একই পোশাক। শুধু তাঁর পা দুটো মাটিতে ছিল না।”

আমার মাথার ভেতর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল।

ঠিক তখনই বাইরের লোকটা আবার কথা বলল।

“সময় শেষ হয়ে আসছে, মোবারক সাহেবের ছেলে। আগামী বৃহস্পতিবার রাত বারোটায় আমরা আবার আসব। তখন যেন কোনো অজুহাত না শুনতে হয়।”

তারপর কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।

আমি সাহস করে দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকালাম।

কেউ নেই।

শুধু খাবারের থালাটা পড়ে আছে।

কিন্তু থালার ভাত, মাছ, ডাল—সবকিছু অক্ষত।

তার পাশে পড়ে আছে একটা ছোট্ট হারিকেন।

আমি হারিকেনটা দেখেই চিনতে পারলাম।

এটা আব্বার হারিকেন।

যেটা নিয়ে তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে কবরস্থানে যেতেন।

আমি আম্মাকে বললাম, “হারিকেনটা এখানে এল কীভাবে?”

আম্মা কোনো উত্তর দিলেন না।

আমি দরজার দিকে এগোতেই তিনি আমার হাত ধরে ফেললেন।

“ওদিকে যাবি না!”

কিন্তু আমি তখন আর কোনো কথা শুনছিলাম না।

ছিটকিনি খুলে দরজা সামান্য ফাঁক করলাম।

বাইরে ঘন অন্ধকার। বাঁশঝাড়ের পাতাগুলো বাতাস ছাড়াই নড়ছে। দূরের কবরস্থান থেকে ক্ষীণ একটা আলো দেখা যাচ্ছে।

সেই আলোর পাশে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছেন।

সাদা পাঞ্জাবি। মাথায় সাদা টুপি।

আমার আব্বা।

আমি কাঁপা গলায় ডাকলাম, “আব্বা!”

লোকটা ধীরে ধীরে আমার দিকে মুখ ফেরালেন।

মুখটা আব্বারই।

কিন্তু তাঁর চোখ দুটো দেখে আমার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল।

তিনি ঠোঁটে আঙুল রেখে আমাকে চুপ করতে বললেন।

তারপর হাতের ইশারায় কবরস্থানের দিকে ডাকলেন।

আমি এক পা এগোতেই পেছন থেকে আম্মা চিৎকার করে উঠলেন।

“খবরদার! ও তোর আব্বা নয়!”

আমি থেমে গেলাম।

কবরস্থানের লোকটা তখন হাসছিলেন।

তারপর এমন একটা কথা বললেন, যা শুনে আমার পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল।

“বাবা, তোমার আম্মাকে জিজ্ঞেস করো, তোমার জন্মের আগে এই বাড়িতে আরেকটি সন্তান হয়েছিল কি না।”

আমি ধীরে ধীরে আম্মার দিকে তাকালাম।

আম্মার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।

তিনি কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লেন।

অনেকক্ষণ পর আমার হাত ধরে বললেন—

“বাবা, তোকে একটা সত্যি কথা বলার সময় হয়েছে। তুই মোবারক সাহেবের প্রথম সন্তান নোস।”

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

“তাহলে আমি কে?”

আম্মা আমার মুখে হাত বুলিয়ে বললেন—

“তোর জন্মের আগের রাতে আমাদের একটা ছেলে হয়েছিল। কিন্তু সে পৃথিবীতে আসার পর মাত্র কয়েক মিনিট বেঁচে ছিল। আর তুই…”

আম্মার কথা শেষ হওয়ার আগেই কবরস্থানের দিক থেকে একটা শিশুর কান্না ভেসে এল।

আমি তাকিয়ে দেখি, আব্বার পাশে এবার আরেকজন দাঁড়িয়ে আছে।

ছোট্ট একটা ছেলে।

তার পরনে পুরোনো সাদা জামা।

ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে বলল—

“ভাইয়া, এত বছর ধরে তুমি আমার খাবার খেয়েছ। এবার আমার সঙ্গে বাড়ি চলো।”

আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আম্মা চিৎকার করে উঠলেন।

আর আমি বুঝতে পারলাম, প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে রান্না করা সেই এক থালা ভাতের রহস্যের সঙ্গে আমার নিজের জন্মেরও একটা সম্পর্ক আছে।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটা তখনও অজানা ছিল।

যদি আমি মোবারক সাহেবের প্রথম সন্তান না হই, তাহলে আঠারো বছর পূর্ণ হলে ওরা আমাকে নিতে আসছে কেন?

চলবে...

আমাদের বাড়িতে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে একজন মেহমানের জন্য ভাত রান্না করা হয়। অথচ সেই মেহমানকে আমি কোনোদিন চোখে দেখিনি। আ''...
20/10/2026

আমাদের বাড়িতে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে একজন মেহমানের জন্য ভাত রান্না করা হয়। অথচ সেই মেহমানকে আমি কোনোদিন চোখে দেখিনি। আ''ব্বা মা**রা যাওয়ার আগে আ''ম্মাকে বলে গিয়েছিলেন, যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন যেন বৃহস্পতিবার রাতে এক থালা ভাত রান্না করে ঘরের পেছনের দরজার পাশে রেখে দেয়। মেহমান এসে খেয়ে যাবেন।

প্রথম প্রথম বিষয়টা নিয়ে আমার খুব কৌতূহল হতো। একদিন আ''ম্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "মেহমানটা কে আ''ম্মা? আমাদের আত্মীয় কেউ?"
আ''ম্মা উত্তর না দিয়ে শুধু বলেছিলেন, "তুই কোনোদিন তাঁকে দেখার চেষ্টা করিস না।"
আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। আ''ম্মার কথাটা শুনে হেসে বলেছিলাম, "ডা*কাত নাকি যে দেখার চেষ্টা করব না?"

আ''ম্মা সেদিন আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়েছিলেন, যেন আমি খুব অ*ন্যায় কিছু বলে ফেলেছি। তারপর থেকে এই বিষয়ে আর কোনোদিন কথা বলিনি।
আমাদের বাড়িটা গ্রামের একেবারে শেষ মাথায়। বাড়ির পেছনে বাঁশঝাড়, তার পরেই পুরোনো একটা কব*রস্থান। দিনের বেলায় কব*রস্থানে পাশে গরু-ছাগল ঘাস খেতে আসে। বিকেলে ছেলেরা সেখানে ক্রিকেট খেলে। কিন্তু মাগরিবের আজানের পর জায়গাটার আশপাশে কাউকে দেখা যায় না।

আ''ব্বা বেঁচে থাকতে ওই কব*রস্থানে প্রায়ই যেতেন। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে সেখানে যেতে দেখেছি। হাতে একটা হারিকেন নিয়ে বের হতেন, কিন্তু ফিরে আসার সময় হারিকেনটা নিভে থাকত। জিজ্ঞেস করলে বলতেন, বাতাসে নিভে গেছে।
আ''ব্বা মা**রা গেছেন ছয় মাস হলো। মৃ**ত্যুর আগের দিনও তিনি সুস্থ ছিলেন। দুপুরে আমার সঙ্গে বাজারে গিয়েছিলেন, ফেরার পথে আমার জন্য জিলাপি কিনেছিলেন। রাতে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ফজরের আজানের আগে আ''ম্মার চিৎকারে ঘুম ভা*ঙে। গিয়ে দেখি, আ''ব্বা বিছানায় শুয়ে আছেন। তাঁর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে।

ডাক্তার বলেছিলেন, ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যা**টাক হয়েছে।
কিন্তু আ''ব্বার মৃ**ত্যুর আগের রাতে একটা ঘটনা ঘটেছিল, যেটা আমি কাউকে বলিনি।
রাত তখন প্রায় দুইটা। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় আমার। ঘরের পেছনের দরজায় কেউ তিনবার টোকা দিয়েছিল। তারপর একজন পুরুষের গলা শুনতে পেলাম।
তিনি বললেন, "মোবারক সাহেব, দরজাটা খুলুন। আজ অনেক দূর থেকে এসেছি।"
আ''ব্বা তখনই বিছানা থেকে উঠে বসেছিলেন। আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলাম, কিন্তু ঘুমানোর ভান করেও বুঝতে পারছিলাম, আ''ব্বা ভ*য় পেয়েছেন।

আ''ব্বা দরজা খুলতে যাওয়ার আগে আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, "বাবা, রাতে কেউ ডাকলে কোনোদিন দরজা খুলবি না। নিজের আ''ব্বা ডাকলেও না।"
সেদিন কথাটার মানে বুঝিনি। পরদিন সকালে আ''ব্বা মা**রা যাওয়ার পর থেকে কথাটা বারবার মনে পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার রাতেও একই ঘটনা ঘটল।
আ''ম্মা রান্নাঘরে ভাত রান্না করছিলেন। আমি পড়ার টেবিলে বসে ছিলাম। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে আ''ম্মা একটা থালায় ভাত, মাছের তরকারি আর ডাল নিয়ে ঘরের পেছনের দরজার পাশে রেখে এলেন। তারপর দরজাটা বন্ধ করে আমার পাশে এসে বসলেন।
আমি বললাম, "আ''ম্মা, আজ তো বৃহস্পতিবার। আ''ব্বা মা**রা যাওয়ার পর ছয় মাস হয়ে গেল। এখনো ওই মেহমান আসেন?"

আ''ম্মা নিচু গলায় বললেন, "আসেন। তোর আ''ব্বা মা**রা যাওয়ার পরও আসা বন্ধ করেননি।"
কথাটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি দেখেছ তাঁকে?"
আ''ম্মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, "দেখেছি।"
আমি অবাক হয়ে বললাম, "কী রকম দেখতে?"
আ''ম্মা আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার বান করলেন।

রাত তখন বারোটা পেরিয়েছে। বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। হঠাৎ পেছনের দরজায় তিনবার টোকা পড়ল।
টক। টক। টক।
আ''ম্মা আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরলেন।
বাইরে থেকে সেই পুরুষের গলা শোনা গেল, "মোবারক সাহেবের ছেলে কি ঘরে আছে?"
আমার শরীরের সমস্ত র**ক্ত যেন জমে গেল। আ''ব্বা মা**রা যাওয়ার পর এই প্রথম কেউ তাঁর নাম ধরে ডাকল।

আ''ম্মা কোনো উত্তর দিলেন না।
বাইরে থেকে আবার ডাক এল, "ভ*য় পাবেন না। আমরা শুধু ছেলেটার সঙ্গে একটু কথা বলতে এসেছি।"
আ''ম্মার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। তিনি আমার মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বললেন, "কোনো শব্দ করিস না। ওরা জানে তুই জেগে আছিস।"
ঠিক তখনই দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে একটা কাগজ ঘরের ভেতরে ঢুকে এল।

কেউ বাইরে থেকে কাগজটা ঠেলে দিয়েছে।
আ''ম্মা কাঁপতে কাঁপতে কাগজটা তুলে নিলেন। হারিকেনের আলোয় কাগজের ওপর লেখা কথাগুলো দেখে তাঁর মুখ সাদা হয়ে গেল।
আমি আ''ম্মার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে পড়লাম।
সেখানে লেখা ছিল, "মোবারক সাহেব কথা দিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে আঠারো বছর পূর্ণ হলে আমাদের সঙ্গে যাবে। আগামী বৃহস্পতিবার ছেলেকে প্রস্তুত রাখবেন। কথা ভা*ঙলে আপনাদের কাউকেই আর পাওয়া যাবে না।"
আমি কাগজটা হাতে নিয়ে আ''ম্মার দিকে তাকালাম।
আমার বয়স তখন সতেরো বছর এগারো মাস।
আর ঠিক সাত দিন পর আমার আঠারো বছর পূর্ণ হবে

চলবে...

শেষ রাতের মেহমান
পর্ব_০১

সবাই এক রকম না—এই কথাটা আগে মাথায় রাখা দরকার।আমার চাচি শাশুড়ী… দুইটা জমজ ছেলে, স্বামী প্রবাসে। বাইরে থেকে দেখলে একজন পরি...
15/04/2026

সবাই এক রকম না—এই কথাটা আগে মাথায় রাখা দরকার।

আমার চাচি শাশুড়ী… দুইটা জমজ ছেলে, স্বামী প্রবাসে। বাইরে থেকে দেখলে একজন পরিপাটি, দায়িত্বশীল নারী—শশুর-শাশুড়ীর যত্ন নেয়, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে, সব জায়গায় নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করে।

কিন্তু মানুষের জীবনের সব দিক তো আর বাইরে থেকে দেখা যায় না। অনেক সময় এমন কিছু আচরণ বা সিদ্ধান্ত থাকে, যেগুলো প্রশ্ন তুলে দেয়—নৈতিকতা, সম্পর্ক, আর বিশ্বাস নিয়ে।

আরেকটা বিষয় আমাকে নাড়া দিয়েছে—আমার জন্য এক ডাক্তারের মাধ্যমে এমন একটা ইনজেকশন এনে দেওয়া, যাতে দীর্ঘ সময় সন্তান না হয়। এটা কি সত্যিই আমার ভালোর জন্য, নাকি অন্য কিছু—বোঝা কঠিন।

👉 এখানে আসল কথাটা হলো— কারো জীবন দেখে পুরো একটা শ্রেণিকে বিচার করা ঠিক না। “প্রবাসীর স্ত্রী মানেই এমন”—এই ধারণা ভুল।

কারণ আমি নিজেই একজন প্রবাসীর স্ত্রী, আর আমি জানি—নিজেকে ঠিক রাখা সম্পূর্ণ নিজের উপর নির্ভর করে।

সবাই নিজের মতো। ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষ।

#বাস্তবতা #সম্পর্ক #মানুষ_চেনা #নিজের_মত_থাকা

10/03/2026

💁‍♀️যারা Daraz কেনাকাটা করেন তারা সকল প্রকার offer পেতে এখনি Whatsapp/ Messenger/Telegram Group এ Add হয়ে যান। ৩০% থেকে ৮০%পর্যন্ত বিভিন্ন Update Voucher - পাবেন🤷‍♀️
🧨সবার আগে Mystery Box এ খবর জানুন🚀

💥Whatsapp Group-👇
https://chat.whatsapp.com/LEriV7uHkKrFZtskY9Wnt1?mode=hq2tcla

💥Messenger Group -👇
https://m.me/j/AbZvLPH6jzaVqNAG/

👉Messenger Group 2-
https://m.me/j/AbbtVXu-8YFi4lTm/

💥Telegram Group-👇
https://t.me/+nq3U4KoEOj44YTRl

দারাজ থেকে যারা কেনাকাটা করেন তারা Join হয়ে থাকুন, সকল Offer এর আপডেট পারবেন।

শুভ সন্ধ্যা নাগর
28/11/2025

শুভ সন্ধ্যা নাগর

24/11/2025

💁‍♀️যারা Daraz কেনাকাটা করেন তারা সকল প্রকার offer পেতে এখনি Whatsapp/ Messenger/Telegram Group এ Add হয়ে যান। ৩০% থেকে ৮০%পর্যন্ত বিভিন্ন Update Voucher - পাবেন🤷‍♀️
🧨সবার আগে Mystery Box এ খবর জানুন🚀

💥Whatsapp Group-👇
https://chat.whatsapp.com/LEriV7uHkKrFZtskY9Wnt1?mode=hq2tcla

💥Messenger Group -👇
https://m.me/j/AbZvLPH6jzaVqNAG/

👉Messenger Group 2-
https://m.me/j/AbbtVXu-8YFi4lTm/

💥Telegram Group-👇
https://t.me/+nq3U4KoEOj44YTRl

আমার কাছে স্টাইল অনেক ভালো লাগে..
08/09/2025

আমার কাছে স্টাইল অনেক ভালো লাগে..

Address

Dhaka Republic, 112 Gulshan Avenue
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arifa Islam Mona posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Nearby health & beauty businesses