09/10/2026
জাদুতে আক্রান্ত হওয়ার কষ্টটা আপনি বুঝবেন না-
যতক্ষণ না সেই কষ্টের ভেতর দিয়ে নিজে যেতে হয়।
আপনি সুস্থ আছেন, জাদুর কষ্ট অনুভব করেননি-
তাই হয়তো জাদুর কথা শুনে হাসেন, কাউকে নিয়ে ঠাট্টা করেন, কিংবা মনে করেন সে অযথা ভয় পাচ্ছে, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে অথবা নিজের কোনো ভুলের কারণেই এসব ভোগ করছে। কিন্তু একজন জাদুতে আক্রান্ত মানুষের বাস্তবতা অনেক সময় বাইরে থেকে দেখা যায় না।
আপনি জানেন না, সে দিনের পর দিন কী নিয়ে বেঁচে আছে। শুধু তার জাগ্রত জীবন নয়-তার ঘুম, স্বপ্ন, ভয়, অস্থিরতা-সবকিছুই যেন এক কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যায়।
দিনের বেলায় শরীরের নানা ব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা, কোমর ও জয়েন্টের ব্যথা, অস্থিরতা, বুকের চাপ, ওয়াসওয়াসা কিংবা নানা ধরনের সমস্যায় সে জর্জরিত থাকতে পারে। অনেক সময় নিজের কাছেই নিজের জীবনটা অসহ্য মনে হয়।
আপনি হয়তো বুঝবেন না-কেন সে হঠাৎ অস্থির হয়ে যায়, কেন অকারণে কান্না পায়, কেন প্রচণ্ড ভয় অনুভব করে। কোনো কোনো মানুষ এমন কষ্টের মধ্যেও থাকে, যেখানে তার মনে হয় চিৎকার করে কাঁদতে চায়, অথচ পাশে এমন কেউ নেই যে তার ভেতরের কষ্টটা বুঝবে।
আর রাত নামলে অনেকের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
যে মানুষ স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে যায়, সে হয়তো প্রতিরাতে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে। সাপ, কুকুর, নেকড়ে, অন্ধকার, কবরস্থান, অচেনা মানুষ, ধাওয়া করা, মারামারি, কোথাও আটকে যাওয়া-এ ধরনের দুঃস্বপ্ন বারবার ফিরে আসতে পারে। ঘুম থেকে উঠে সে ক্লান্ত হয়ে যায়, অথচ আশপাশের মানুষ হয়তো বলে-“এটা তো শুধু স্বপ্ন!”
আপনি কি কখনো কল্পনা করেছেন-অন্ধকার রাতে নিজেকে কবরস্থানের মাঝখানে আটকে পড়া অবস্থায় দেখছেন, চারপাশে অন্ধকার, বের হওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু পারছেন না?
অথবা দেখছেন, একদল অচেনা মানুষ আপনাকে ধাওয়া করছে, আপনি প্রাণপণে পালাচ্ছেন-কিন্তু কোথাও নিরাপদ জায়গা পাচ্ছেন না?
এগুলো যে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই জাদুর কারণে হয়-এমনটা নাও হতে পারে। স্বপ্ন, শারীরিক অসুস্থতা বা মানসিক চাপেরও নানা কারণ থাকতে পারে। কিন্তু যে মানুষটি এসব কষ্ট নিয়ে আমাদের কাছে আসে, তার কষ্টকে উপহাস করার অধিকার আমাদের নেই।
কেউ পেট ও হজমের সমস্যায় ভুগছে, খেতে পারছে না। কেউ দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা, দুর্বলতা কিংবা অস্থিরতায় ভুগছে। কেউ নিজের স্বামী-স্ত্রী, সন্তান কিংবা আপনজনদের কাছ থেকেও অকারণে দূরে সরে যাচ্ছে। আবার কখনো পরিবারও তার আচরণ বুঝতে না পেরে তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো-মানুষ যখন নিজের কষ্টের কথা বলতে চায়, তখন অনেকেই তাকে বুঝতে চেষ্টা না করে উপহাস করে।
কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ দীর্ঘদিনের সমস্যায় নিজের স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে ফেলছে, কোনো শিশু ভয়ংকর কিছু দেখার কথা বলছে-এসব পরিস্থিতিকে শুধু হাসির বিষয় বানিয়ে দেওয়া কখনোই মানবিকতা নয়।
তাই কারও কষ্টকে ছোট করবেন না।
আপনি তার শরীরের ব্যথা দেখছেন না বলে ব্যথা নেই-এটা বলা যায় না। তার রাতের ঘুম আপনি দেখছেন না বলে তার কষ্ট নেই-এটাও বলা যায় না।
ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি দয়া করতে, তাকে অপমান না করতে এবং তার কষ্টকে হালকা করে না দেখতে। কুরআন, দোয়া, যিকির ও শরিয়তসম্মত রুকইয়াহর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। পাশাপাশি শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসাও গ্রহণ করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বিপদগ্রস্ত মানুষকে ধৈর্য দিন, শক্তি দিন এবং উত্তম শিফা দান করুন।
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
হে আল্লাহ, যারা জাদু ও অন্যায়ভাবে মানুষের ক্ষতি করে-তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার বান্দাদের হেফাজত করুন এবং প্রত্যেক মজলুমকে সাহায্য করুন।
__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf