21/09/2026
গাজার ছেলেটার জুতো আছে, ও পরে না কারণ যে কিনে দিয়েছিল, সে আর নেই। ওর বল আছে, পুরনো আর ছেঁড়া কারণ যার বল ছিল, সে আর ফেরেনি। তবুও প্রতিদিন বিকেলে ও খালি পায়ে মাঠে নামে। সবচেয়ে সাহসী কাজটা গোল করা নয়।এত কিছু হারিয়েও আবার খেলতে নামা।
যে বলটা এখনো গড়ায়!!
গাজার ছেলেটার নাম আদম। ওর জুতোজোড়া আছে নীল রঙের, ঘরের কোণে পড়ে থাকে। ঈদের আগে বাবা কিনে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন, "এবার তুই সত্যিকারের খেলোয়াড়।" আদম ওগুলো পরে না। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে, "খালি পায়ে ভালো শট হয়।" আসল কারণটা বললে গলা কেঁপে যাবে, আর আদম ঠিক করে রেখেছে ও কাঁদবে না।
খেলা শুরু হয় বিকেল চারটায়। দুটো ইট মানে গোলপোস্ট। টিম ভাগ করতে গিয়ে রোজ একটা সমস্যা হয় সংখ্যা মেলে না। আগে মিলত। ছয় বছরের ইয়াসিন একদিন জিজ্ঞেস করে ফেলেছিল, "মাহমুদ ভাই আজও আসবে না?" গলিটা চুপ করে গিয়েছিল। তারপর আদম বলেছিল, "মাহমুদ গোলকিপার ছিল, এখন ও ওপর থেকে দেখে। তাই আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে।"
বলটা পুরনো, সেলাই খোলা, ধুলোর রঙ। এই বলটা মাহমুদের ছিল। শেষ দিন ওরা ড্র করেছিল ৩-৩, মাহমুদ বলেছিল, "কাল ফয়সালা হবে।" কাল আর আসেনি। বলটা আদম নিজে খুঁজে এনেছিল, কাউকে বলেনি কোথায় যাচ্ছে। এখন প্রতিটা গোলের পর ও আকাশের দিকে একবার তাকায় এক সেকেন্ড। কেউ খেয়াল করে না। স্কোরটা ওর মাথায় জমা আছে, ৩-৩ থেকে গোনা শুরু।
আদমের মা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি খেলা দেখেন না, তিনি গোনেন যতজন বেরোয়, ততজন ফেরে কি না। আদম জানে, তাই মাঝেমধ্যে ঘুরে হাত নাড়ে। যেন বলে আমি আছি, মা।
সেদিন এক সাংবাদিক এসেছিলেন ভাঙা বাড়ির ছবি তুলতে। পারেননি। কারণ ক্যামেরা তোলার ঠিক আগে উনি দেখলেন একটা ছেলে ছেঁড়া গেঞ্জি, দুহাত পাখির ডানার মতো ছড়ানো, এক পা বাতাসে, চোখ শুধু বলের দিকে। সেই মুহূর্তে ওর দুনিয়ায় কোনো যুদ্ধ ছিল না, কোনো শোক ছিল না শুধু একটা শট বাকি ছিল। উনি পরে লিখেছিলেন, "আমি ধ্বংস খুঁজতে গিয়েছিলাম, আমাকে শৈশব দেখিয়ে দেওয়া হলো।"
ছবিটা লক্ষ মানুষ দেখেছিল। আদম কিছুই জানে না। ও তখন ভাবছিল, ইয়াসিনকে ফরোয়ার্ডে দিতে হবে একটা গোল পেলে ছেলেটা খুশি হবে। নয় বছরের একটা ছেলের যা ভাবার কথা না, আদম সেসব ভাবে।
রাতে মা জিজ্ঞেস করেন, "আজ জিতেছিস?" আদম বলে, "মা, আজ খেলেছি।" মা ওর ধুলোমাখা চুলে হাত রাখেন। কাল সকালে ছেলেটা আবার বেরোবে, তিনি আবার গুনবেন। কিন্তু আজ রাতে ছেলেটা বাড়িতে আছে আজ রাতে এটাই যথেষ্ট।
মানুষ ছবিটায় দেখে একটা শিশুকে খালি পা, ধুলোমাখা, শূন্যে ভাসমান। যারা একটু বেশিক্ষণ তাকায়, তারা দেখে অন্য কিছু: যার জুতো ঘরের কোণে পড়ে আছে, যার বন্ধু আর কোনোদিন গোলপোস্টে দাঁড়াবে না আর তবুও সে পা তুলেছে। কারণ শিশুরা শুধু বেঁচে থাকে না, তারা খেলে। যতক্ষণ একটা ছেঁড়া বল ধুলোর ওপর গড়ায়, ততক্ষণ ওই গলিটা কবরস্থান নয় ওটা মাঠ।
মুহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম)
মহাপরিচালক
Hafezzi Charitable Society Of Bangladesh
Team Hafezzi (ব্যাকআপ)
wwww.hcsb.org.bd
:- Written in tribute. Names and details are the writer's; the child's real story is his own.