13/10/2026
আপনার ঘরের এমন ৫টি স্থান সম্পর্কে জানেন কি, যেখানে শয়তান আশ্রয় নিতে পারে? বিশেষ করে ঘরে ছোট সন্তান থাকলে বিষয়গুলো জানা জরুরি!
আমাদের বাড়িঘরের ৫টি স্থানে শয়তান ‘বসত’ গাড়ে। এসব স্থান সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে, ঘরে ছোট সন্তান থাকলে।
❶ দীর্ঘদিন ধরে বিছিয়ে রাখা অব্যবহৃত বিছানা
দীর্ঘদিন যাবৎ যে বিছানায় কেউ শোয়নি, শয়তান এমন বিছানা দখল করে বসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
আরবি:
فِراشٌ لِلرَّجُلِ، وفِراشٌ لأهلِهِ، والثّالِثُ لِلضَّيْفِ، والرّابِعُ لِلشَّيْطانِ
অর্থ: পুরুষের জন্য একখানা বিছানা, তার স্ত্রীর জন্য একখানা বিছানা এবং তৃতীয়টি অতিথির জন্য। আর চতুর্থটি শয়তানের জন্য।
📚 (জাবের রা.। মুসলিম: ২০৮৪)
বসীরাহ: এজন্য অব্যবহৃত বিছানা ভাঁজ করে রাখা নিরাপদ। ভাঁজ না করলেও নিয়মিত বিছানা ঝাড়া উচিত। অথবা আয়াতুল কুরসি ও রুকইয়ার আয়াত পড়ে ফুঁ দেওয়া পানি ছিটানো উচিত। দুই বা তিন দিন পরপরই এমনটা করা উচিত।
❷ হাম্মাম (বাথরুম)
এটা সবার জানা আছে। হাম্মামে সবচেয়ে দুষ্ট আর খবিস প্রকৃতির শয়তানরাই থাকে। এজন্য হাম্মামে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা ভীষণ জরুরি।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
আরবি:
إنَّ هذه الحُشوشَ مُحتَضرةٌ، فإذا أتى أحَدُكم الخلاءَ فلْيَقُلْ: أعوذُ باللهِ مِن الخُبُثِ والخبائثِ
অর্থ: এসব পায়খানার স্থান হচ্ছে (জিন ও শয়তানের) উপস্থিতির স্থান। সুতরাং যারা পায়খানায় যাবে, তারা যেন এ দোয়া পড়ে—
দোয়া:
আ’ঊযু বিল্লা-হি মিনাল খুবুসি ওয়াল খবা-য়িস।
অর্থ: আমি নাপাক নর-নারী শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
📚 (যায়েদ বিন আরকাম রা.। আবু দাউদ: ২)
❸ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা অব্যবহৃত ও না ধোয়া জামাকাপড়
আলমারি ও ওয়ার্ডরোবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা পোশাক-আশাকও এই ঝুঁকির আওতামুক্ত নয়। নবীজি বলেছেন,
আরবি:
اطووا ثيابَكُم ترجِعُ إليها أرواحُها، فإنَّ الشَّيطانَ إذا وجدَ ثوبا مطويًّا لم يَلبَسهُ، وإذا وجدَهُ مَنشورًا لبسَهُ
অর্থ: তোমাদের জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখো। কারণ, এসব জামাকাপড়ের কাছে দুষ্ট জিনেরা ফিরে ফিরে আসে। আর শয়তান ভাঁজ করা জামাকাপড় পরে না। মেলে দেওয়া পোশাক পেলে পরে।
📚 (জাবের রা.। সিলসিলাহ যয়ীফা: ২৮০১)
বসীরাহ: আমরা অনেকেই জামাকাপড় ঝুলিয়ে রাখি। হাতের নাগালে রেখে, যখন ইচ্ছা পরার সুবিধার্থে আমরা সাধারণত জামাকাপড় লটকে রাখি। যেকোনো ক্ষতি-অনিষ্ট থেকে বাঁচতে হলে এসব পোশাকে কুরআন পড়া পানি ছিটিয়ে দেওয়া নিরাপদ। মাঝেমধ্যে আলমারি ও ওয়ার্ডরোব খুলে জামাকাপড়ে সূরা ফাতিহা ও আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দিতে পারি।
❹ প্রাণী বা মানুষের মূর্তি ও পুতুল
এসব পুতুল-মূর্তি ঘরে থাকলে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। ফেরেশতার আগমন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এসব পুতুল-মূর্তির আড়ালে শয়তান (দুষ্ট জিন) আশ্রয় গ্রহণ করে। নবীজি বলেছেন,
আরবি:
لا تَدْخُلُ المَلائِكَةُ بَيْتًا فيه كَلْبٌ، ولا تَماثِيلُ
অর্থ: যে ঘরে কুকুর ও মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
📚 (আবু তালহা রা.। মুসলিম: ২১০৬)
বসীরাহ: আরেক বর্ণনায় আছে, ঘরে ‘ছবি’ থাকলেও ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
❺ আগুন জ্বালানোর স্থান—উনুন ও চুলা
এসব স্থান জিন-শয়তানের খুবই প্রিয় জায়গা। কারণ, তারা আগুনেরই সৃষ্টি।
এজন্য যখনই আগুনের কাছে যাব, রান্নাবান্নার কাজে চুলার কাছে যাব, মুখে-মনে আল্লাহর জিকির করার অভ্যাস গড়ে তুলব। ইন শা আল্লাহ।
---
নাউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম।
🤲 দুআ:
ইয়া আল্লাহ, আমাদেরকে ও আমাদের সন্তান-সন্ততিকে জিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
মুল লেখা শায়েখ আতিকুল্লাহ হাফি.